আগাম বন্যায় বোরো ধানের ক্ষতি কমাতে নিয়মিত পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দেওয়া হবে

স্টাফ রিপোর্টার
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগাম বন্যা ও হাওরের বোরো ফসলের ক্ষতি হ্রাসের বিষয়ে সুনামগঞ্জে অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহওয়া অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা হয়।
মতবিনিময় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কিকরণ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কিকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভুইয়া, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবুল কালাম মল্লিক, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাবিবুর রহমান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কার্যকরি সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বিন্দু তালুকদার, সময়টিভির জেলা প্রতিনিধি হিমাদ্রি শেখর ভদ্র প্রমুখ।
সভায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ বলেন,‘ সাধারণত মার্চ -এপ্রিল মাস থেকে বেশি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও বরাক বেসিনে একসময়ে বেশি বৃষ্টিপাত হলে সুনামগঞ্জে আগাম বন্যা দেখা দেয়। তবে আবহওয়ার পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দিলে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। সেজন্য আবহাওয়া অধিদপ্তদর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নিয়মিত আগাম বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রচার করা হবে। তবে আবওয়ার খবর তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। যাতে কৃষকরা আগাম বন্যার বার্তা পেয়ে ক্ষতি হ্রাসের চেষ্টা করতে পারেন। ’
বক্তারা আরও বলেন,‘ সীমান্তের ওপাড়ে ভারতের মেঘালয় ও বরাক নামে দুটি বেসিন রয়েছে। তবে বরাক বেসিনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপুর্ন ও বিপদজনক। এ বেসিনে টানা ৭ দিন বৃষ্টিপাত হলে হাওরের ফসল আগাম বন্যার মুখে পড়ে। মাত্র ৬ থেকে ১২ ঘন্টারও কম সময়ে বরাক বেসিনের পানি সীমান্ত নদী দিয়ে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার ফসলকে ঝুঁিকতে ফেলে। এজন্য হাওর এলাকায় পানি ধারণ করার জন্য ভরাটকৃত নদ-নদী, জলাধার, খাল-বিল খনন করতে হবে। এগুলো খনন করলে আগাম বন্যা প্রতিরোধ করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’
সভায় আরও জানানো হয়, আগামী বন্যা ও বৃষ্টিপাতের বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন দিন আগে তথ্য প্রকাশ করতে বা বার্তা দিতে পারে। আগাম তথ্য জানার বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করছে। এছাড়া সুনামগঞ্জের ৩০৮ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।