আজ চৈত্রসংক্রান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
আজ বাংলা বছরের শেষ দিন। চৈত্র মাসের এই দিনটিকে বলা হয় চৈত্রসংক্রান্তি। বাংলার বিশেষ লোকজ উৎসব এই চৈত্রসংক্রান্তি। আবহমান বাংলার চিরায়িত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসে এ দিনটি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরনোকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে নানা অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে চৈত্রসংক্রান্তির সব উৎসব উবে গেছে। ইতোমধ্যে সরকার পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণে কোনো অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করা হয়েছে।
দীর্ঘ এক বছরে কত সুখস্মৃতি! পাওয়ার আনন্দ, না পাওয়ার বেদনা। হাপিত্যেশ। ঘটনা-দুর্ঘটনা। বছরের শেষ সূর্যের সঙ্গে সবই অস্ত যাবে। পুরনো সে-নক্ষত্রের দিন শেষ হয়/নতুনেরা আসিতেছে ব’লে…। নতুন বছর শুরুর প্রাক্কালে আজ পুরনোকে বিদায় নেবে।
সনাতন ধর্ম অনুসারীরা এই চৈত্রসংক্রান্তিকে গ্রহণ করেন পুণ্যের দিন হিসেবে। তারা তাদের শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে এদিনের স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করেন। চৈত্রসংক্রান্তির দিনে দেশের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীগুলো উদযাপন করে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বৈসাবি। প্রতিবছর এই হালখাতা উৎসব ঘিরে ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করেন। দোকানপাট ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেন দোকানিরা। এদিন বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় চৈত্রসংক্রান্তির নানা অনুষ্ঠান। এক অন্যরকম আনন্দ ও উৎসবের ভেতর দিয়ে এই দিনটি পার করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে থাকেন নানা প্রস্তুতি।
কিন্তু করোনার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সব বন্ধ। উৎসব দূরে থাক মানুষের জীবন বাঁচানোয় যেন এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতেই নিষেধ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও আজ পৃথিবীর সমস্ত জরা থেকে মুক্তি কামনা করবেন সকলে। ঋতুচক্রের পালাবদলে আগামীকাল নতুন আশা নিয়ে শুরু হবে ১৪২৭ বঙ্গাব্দ।