আজ পিতা-মাতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন পীর হাবিবুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ও বরেণ্য সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের মরদেহ আজ সোমবার তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। এর আগে সোমবার দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে পীর হাবিবুর রহমানের মরদেহ। এরপর বাদ জোহর সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদে এবং শেষে নিজ গ্রাম মাইজবাড়ীতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পিতা-মাতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন পীর হাবিবুর রহমান।
এদিকে বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার প্রিয় কর্মস্থলের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। বাংলাদেশ প্রতিদিন অফিস প্রাঙ্গণে প্রয়াতের চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পীর হাবিবুর রহমানের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলানিউজ২৪, নিউজ২৪, রেডিও ক্যাপিটাল ও টি স্পোর্টসের সকল কর্মীরা।
এর আগে, রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পীর হাবিবুর রহমানের মরদেহ রাখা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে পীর হাবিবুর রহমানের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা এবং বাদ জোহর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, বরেণ্য সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমান দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দৈনিক বাংলাবাজার, যুগান্তর, মানবকণ্ঠ, আমাদের সময় পত্রিকায় কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পীর হাবিবুর রহমান দেশের জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজের প্রতিষ্ঠাতা।
গত শনিবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও খ্যাতিমান কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমান রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতবছর অক্টোবরে মুম্বাই জাসলুক হাসপাতালে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে ক্যানসার মুক্ত হন পীর হাবিবুর রহমান। গত ২২ জানুয়ারি তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহর পরামর্শে ৫৮ বছর বয়সী এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনামুক্ত হওয়ার পর কিডনিগত জটিলতার কারণে তাকে ভর্তি হতে হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই স্ট্রোক করেন পীর হাবিব। এরপর তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।