সু.খবর ডেস্ক
সদ্য বিদায়ী ২০২২ সালে ৬ হাজার ৭৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩৫৬ জন আহত হয়েছেন, যা গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে সাড়ে ২৮ শতাংশ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই সব তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, গত বছরে রেলপথে ৬০৬ টি দুর্ঘটনায় ৫৫০ জন নিহত এবং ২০১ জন আহত হয়েছে। ২৬২ টি নৌ দুর্ঘটনায় ৩৫৭ জনের প্রাণ গেছে। ৭৪৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ৭ হাজার ৬১৭ টি দুর্ঘটনায় ১০ হাজার ৮৫৮ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৮৭৫ জন আহত হয়েছেন।
সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার সংবাদ পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় গত বছর সড়কে দুর্ঘটনায় ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিবন্ধিত যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে গত আট বছরে। ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ত্রি-হুইলার সরকারি আদেশ অমান্য করে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অবাধে চলাচলের কারণে বিগত বছরে সড়কে সর্বোচ্চ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব আরও জানান, দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৬১৬টি যানবাহনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যার ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বাস, ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ পণ্যবাহী যান, ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক এবং ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ নছিমন-করিমন-টেম্পুর মতো যানবাহন। দুর্ঘটনার ৫২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেওয়ায়, ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৫২ দশমিক ২ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটেছে। বাকিগুলো ঘটেছে জেলা ও গ্রামীণ সড়কে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২২ সালে সবচেয়ে দুর্ঘটনা ঘটে ওই বছরের ১৫ জুলাই। সেদিন ৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত ও ৯৭ জন আহত হয়েছেন। ২৯ জুলাই ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪ জন নিহত ও ৮৩ জন আহত হন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ২০টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে বেপরোয়া গতি, বিপদজনক ওভারটেকিং, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধে চলাচল, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মনোভাব, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন উল্লেখযোগ্য। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ ১৩ দফা সুপারিশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সেইফ রোড এন্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্সের চেয়্যারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ আবদুল হক, সমিতির সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন প্রমুখ।
সূত্র : সমকাল

