আতংকে দুই সাধকের মিলনমেলা নিরবে শেষ

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
অদ্বৈত জন্মধামে পণতীর্থ গঙ্গা¯œান ও বারুণী মেলা এবং হযরত শাহ আরেফিন (রহঃ) এর ওরস করোনা ভাইরাস আতঙ্কে নিরবে শেষ হয়েছে। গত শনিবার ও রবিবার দুই দিনব্যাপী তাহিরপুর উপজেলার (প্রাচীন লাউড় রাজ্যের নবগ্রামে) শ্রীশ্রী অদ্বৈত জন্মধাম সংলগ্ন পণতীর্থ গঙ্গা¯œানের মুধকৃষ্ণা ত্রোয়দশী তিথি ছিল। একই সঙ্গে উত্তরে ২/৩ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের পাদদেশে তিনব্যাপী শাহ আরেফিন (রাঃ) ওরসের তারিখ ছিল।
কিন্ত করোনা ভাইরাস আতঙ্কে উৎসব স্থগিত ঘোষণা করা হলে তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের ঘোষণা মেনে দুটি মেলাতেই দূর দূরান্ত থেকে ভক্তবৃন্দ আসেননি। সকল প্রকার যানবাহন চলাচলও বন্ধ ছিল।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, ভক্তবৃন্দের সমাগম তেমন নেই। স্থানীয় ও আশপাশের কিছু ভক্তবৃন্দ শুধু গঙ্গা¯œান করেই বাড়ি ফিরে যান। মেলা স্থলে কোন দোকানপাটও নেই। মেলাঙ্গনে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছিল জনমনে।
কোন প্রকার সমাগম যাতে না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ছিল তৎপর। কয়েক দিন আগে থেকেই মেলায় না আসতে এবং সকল প্রকার সমাবেশ বন্ধ ঘোষণার জন্য ব্যাপক প্রচারণা করা হয়। এছাড়া পূজা উদযাপন পরিষদসহ সকল ধর্মীয়, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহল প্রচারণায় সহযোগিতা করেন।
পণতীর্থ মেলার পরিচালনার কমিটির সহ-সভাপতি মুধু সূদন রায় ও সাধারণ সম্পাদক অদ্বৈত রায় বলেন, সরকারের পদক্ষেপকে আমরা সহযোগিতা করেছি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল বনিক বলেন, দ্রুত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ প্রশাসনের সাথে কাজ করেছে। সমাবেশ ও জমায়েত করতে নিরুতসাহীত করেছে।
শাহ আরেফিন ওরস কমিটির নেতা আলম সাব্বির বলেন, করোনা আতঙ্কে সরকারের প্রচারকে সম্মান জানিয়ে আমরাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর লাখো পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটে যাদুকাটা নদীর গঙ্গা ¯œানে এবং শাহ আরেফিন (রহঃ) এর ওরসে। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের আগমণে এক মিলন মেলায় পরিণত হয়।