আত্মঘাতী বাঙালিকে রক্ষা করতে হবে

সুনামগঞ্জ পৌরাঞ্চল সহ সদর উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন প্রতিদিন নিরবে বেড়ে চলেছে। আগে যেমন খোঁজখবর রাখত সকলে এখন সেরকমটি আর নেই। সকলেই গা ছেড়ে দিয়েছে। কেউ ভুলেও এখন এই ভাইরাসের কথা আলোচনায় টানেন না। রাষ্ট্র যেমন হাল ছেড়ে দিয়েছে মানুষও তেমনি ছুটে যাওয়া হালের পিছনে ছুটা বাদ দিয়েছে। এ মন্দের ভাল। যার কোনো সমাধান নেই, অন্তত আমরা করতে জানি না; সে নিয়ে যত কম মাথা ঘামানো যায় তত ভাল। নিদেনপক্ষে ভয়ের ঝাঁপটা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তাই সকলের অলক্ষ্যে ভাইরাস তার প্রকোপ বাড়িয়ে চলেছে। বানের পানির মতো হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা আমাদের এই শহরে। এক সময় ছাতক ও সদর পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন একে অপরকে অতিক্রম করতে চাইত। ছাতক এখন অনেক ভাল অবস্থানে চলে এসেছে। ৮ মৃত্যু নিয়ে ছাতক শীর্ষে থাকলেও তারা আক্রান্ত হওয়ার রাশ টানতে বেশ সক্ষমতা দেখিয়েছে। সুস্থতার হারও ছাতকে ভাল। পক্ষান্তরে সদর উপজেলায় আক্রান্ত বেড়ে চলেছে। শুক্রবার পর্যন্ত সদর উপজেলায় আক্রান্ত ৪ শ’ ছুঁই ছুঁই হয়ে গেছে যার অধিকাংশই সুনামগঞ্জ পৌরাঞ্চলের। কেন ছাতক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারল আর কেন সদর দরজা খোলে দিল এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক হলেও আমরা জানি এ নিয়ে কোনো কথা হবে না। এর বিপদ কিন্তু জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।
শনিবার সকালে ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় মানুষকে মাস্ক পরিধানে বাধ্য করতে পুলিশের অভিযান দেখলাম। ওই সময় বহু মাস্কবিহীন মানুষকে নমুনা সাজা দিতে দেখা গেছে। দৃশ্যত এখন অধিকাংশ মানুষ মাস্ক পরিধান করেন না। যারা মাস্ক পরেন বা মাস্ক পরার উপদেশ দেন তাদের দস্তুরমতো উপহাস করে মাস্কহীনরা। বাঙালি পতঙ্গপ্রায় প্রজাতির পরিচয় দিচ্ছে। পতঙ্গ যেমন আগুনে ঝাঁপ দিয়ে নিজের মৃত্যুকে নিশ্চিত করে তেমনি এই করোনাকালে এই পতঙ্গ স্বভাবের মানুষগুলো কোনো স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে ভাইরাসকে নিজের শরীরে প্রবেশের অবারিত সুযোগ করে দিচ্ছে। এমন অবস্থায় নিয়ম না মানতে অভ্যস্ত মানুষকে সঠিক পথে আনতে কিছু কঠোরতা দেখানো প্রয়োজন। পুলিশের অভিযান এই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। তবে কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তেমন ফল আসবে বলে মনে হয় না। ট্রাফিক পয়েন্ট পেরিয়েই মাস্ক থুতনির নীচে চলে আসার দৃশ্য এর প্রমাণ। মূলত নীরদ সি. চৌধুরী কথিত আত্মঘাতী বাঙালিকে মরণযাত্রা থেকে রক্ষা করতে কোনো উপায় আছে কিনা তা আজও অনাবিষ্কৃত। তবু আমরা পুলিশের এমন অভিযানের ধারাবাহিকতা কামনা করি।
করোনার রহস্যজনক চরিত্র ও এ সম্পর্কে পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের কোনো নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন না করতে পারা এই ভাইরাস অভিঘাতকে আরও বহুদিন টিকিয়ে রাখবে। এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে মনে হয় করোনা প্রাকৃতিকভাবে বিদায় না নিলে মানুষের কোনো সাধ্য নেই একে নিয়ন্ত্রণ করার। ঔষধ বা ভ্যাকসিন বিষয়ে যে খবরাখবর তা মূলত অর্থনৈতিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুতরাং ব্যক্তির সচেতনতা ছাড়া রক্ষা পাওয়ার আর কোনো পথ নেই। অসচেতন জনগোষ্ঠীকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে যেমন উদ্বুদ্ধকরণ কাজ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে হবে তেমনি আইনি পদক্ষেপগুলোও জোরদার করতে হবে। এ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোরআকাজে সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হওয়াটা হবে সঠিক পন্থা। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকেও এই কাজে সম্পৃক্ত করা যায়। আমাদের একটি জাতীয় উদ্দেশ্য রয়েছে। সেটি হলো করোনা ভাইরাসের ক্ষয়ক্ষতিকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা। ওই উদ্দেশ্য অর্জনে যা করা দরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাই করে যেতে হবে।