আবহাওয়া পূর্বাভাস, হাওরে আবারও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির আশংকা

স্টাফ রিপোর্টার
হাওরে পানি নামতে না নামতেই আরেকটি ঢল আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের উজানে ভারতের আসাম (বরাক অববাহিকা) ও মেঘালয় রাজ্যে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে সুনামগঞ্জ ছাড়াও সিলেট ও নেত্রকোনা জেলার কতিপয় স্থানে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
হাওরে একবার পানি নামতে না নামতেই আরেকটি ঢল আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং অন্যান্য বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহ থেকে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে চলতি সপ্তাহে স্বাভাবিক থেকে বেশী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম (বরাক অববাহিকা) ও মেঘালয় রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, লুভাছড়া, সারিগোয়াইন, ধলাগাং, পিয়াইন, ঝালুখালি, সোমেশ্বরী, ভুগাই—কংস, ধনু—বাউলাই নদ নদী সমূহে পানি বৃদ্ধি পেয়ে কতিপয় পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে এই সময়কালের শেষার্ধে সুনামগঞ্জ ছাড়াও সিলেট ও নেত্রকোনা জেলার কতিপয় স্থানে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বোরো ধান এখনো আধা পাকা অবস্থায় থাকায় ঢলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ধান পাকার আগে বড় ঢল আসবে না বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধান পাকা শুরু হলে তা কাটার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও শ্রমিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষতির আগে ধান কেটে ফেলা যাবে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, বাংলাদেশের উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের ভেতরেও বৃষ্টি হতে পারে। ফলে এই দুই বৃষ্টিপাত মিলে হঠাৎ বন্যা আরও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।