আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অতীতের ন্যায় এবার পৌষ মাঘ মাসে শীত পড়বে না

বিন্দু তালুকদার
ষড় ঋতুর বাংলাদেশ। পৌষ-মাঘ শীতকাল। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী পৌষ মাসে কনকনে শীত থাকার কথা। এই সময়ে বেশ কয়েকবার শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার কথা। তীব্র শীতে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার ভয়ে এই সময়ে শীতে জবুথবু থাকার কথা মানুষের। কিন্তু গত কয়েক বছর যাবৎই শীত মৌসুমে তীব্র শীতের দেখা মিলছে না। এবার আরও কম। পৌষ মাস অত্রিকান্ত হতে চললেও এখনও অনেকে গায়ে চাপান নি শীতের কাপড়। বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর ফলেই শীত কমছে, ঘটছে আবহ্ওায়ার নানা পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের এমনই ধারণা।
সিলেট অঞ্চলে পৌষ মাসের শেষ ও মাঘ মাসেও অন্য বছরের ন্যায় শীত পড়বে না বলে জানিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাইদ আহমদ চৌধুরী। এদিকে হঠাৎ করে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনে প্রকৃতি, কৃষি, জনস্বাস্থ্যে ব্যাপক পরিবর্তন ও ক্ষতি হওয়ার আশংকা করছেন সাধারণ মানুষ, কৃষিবিদ এবং চিকিৎসকরা।
সিলেট আবহওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের গড় তাপমাত্র ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বিদায়ী ২০১৬ সালের তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামেনি। গত বছরের চেয়ে এবারের পৌষ মাসের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বেড়েছে। নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী পুরো মাস জুরে ( পৌষ ও মাষ মাসের অর্ধেক) অন্য বছরের ন্যায় শীত পড়ার সম্ভবনা নেই। হঠাৎ করে দুই একদিন শীত পড়তে পারে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে কিছু সময়ের জন্য থাকবে।
সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরের বাসিন্দা গৃহিনী মনিকা রানী দাস বলেন,‘আমি মনে করি আবহাওয়ার নিশ্চয়ই কিছু পরিবর্তন হয়েছে।     
 পৌষ মাস শেষ পর্যায়ে এখনও অন্য বছরের মত শীত পড়েনি। ফাল্গুন-চৈত্র মাসের মত এখনও গরম লাগে। দিনের কোন সময়ই গায়ে শীতের কাপড় পড়তে হয় না। রাস্তা-ঘাটে ঘন কুয়াশা পড়তে দেখি নি। ’
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোশিয়েশন (বিএমও) সুনামগঞ্জ শাখার সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর নুর বলেন,‘ অন্যান্য বছর পৌষ মাসে শীতের নানা অসুখ-বিসুখ (সর্দি, কাশি ও ঠান্ডা জনিত নানা রোগ) দেখা দিত। কিন্তু এই বছর শীত না থাকায় এসব অসুখ দেখা যাচ্ছে খুবই কম।’ তিনি আরো বলেন,‘ আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে জনস্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব এখনই বুঝা যাবে না, ভবিষ্যতে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জাহেদুল হক বলেন,‘ আবহওয়ার পরিবর্তনের কারণে কৃষির সার্বিক ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। শীত কম পড়ার কারণে বোরো ধানের তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতি হবে না। তবে ফুল কপি, বাধা কপিসহ শীতকালীন সবজির ক্ষতি হবে। তাপমাত্র বেশী থাকলে সবজি খেতে নানা রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন,‘ জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে আগাম বন্যার হাত থেকে বোরো ধানকে রক্ষা করতে কৃষকদেরকে কম সময়ে দ্রুত ফলনশীন ধান চাষাবাদ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। ’
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাইদ আহমদ চৌধুরী বলেন,‘ গত কয়েক বছর ধরেই পারিপার্শ্বিক কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বছরের গড় তাপমাত্র দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। শীতকালে শীত পড়ছে না, উল্টোদিকে গরমের সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টির সময় বৃষ্টিপাত না হয়ে অসময়ে বেশী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাক-বর্ষা মৌসুমে মার্চ থেকে এপ্রিল মার্স পর্যন্ত অধিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে।’ আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে প্রকৃতির জীব-বৈচিত্র, কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা করেন তিনি।