আবাসিক হোটেলে নাট্য কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি
শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ সদর উপজেলা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাট্যকর্মী চুমকি বেগমের লাশ (২০) উদ্ধার করা হয়েছে। চুমকী বেগম শহরের পশ্চিম তেঘরিয়ার বাসিন্দা বলে হোটেলের রেজিস্টারে পরিচয় লিখা রয়েছে। সে শহরের ওয়েজখালী সুরমা নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য ছিল। নিহত চুমকি সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নরুল্লা গ্রামের প্রয়াত হারুন রশিদের মেয়ে।
পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে চুমকী বেগম ও মহিম ইসলাম স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেল আল হেলালের ১০১ নং রুম ভাড়া নেয়। সকাল ৭ টার দিকে তার স্বামী মহিম ইসলাম নাস্তা আনার কথা বলে বাহিরের দিক থেকে রুম তালা দিয়ে যায়। এরপর সকাল ১১ টা পর্যন্ত ওই রুম তালাবদ্ধ দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষ ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঐ রুমের বিকল্প চাবি দিয়ে রুমে প্রবেশ করে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ঐ তরুণীর মরদেহ হোটেলের বিছানায় পড়ে রয়েছে বলে দেখতে পায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখি তরুণীর গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় বিছানায় মরদেহ পড়ে আছে। তাৎক্ষণিক ধারণা করা হচ্ছে গলায় ওড়না পেচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় মোহনপুরের নরুল্লায় নিহত চুমকীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে ।
পশ্চিম তেঘরিয়ার বাসিন্দা সাবেক পৌর কমিশনার মোসাদ্দেক হোসেন বাচ্চু বলেন,‘নিহত চুমকি পশ্চিম তেঘরিয়ার বাসিন্দা নয়’।
নিহত চুমকির ভাই সোহেল মিয়া বলেন,‘আমরা ৫ ভাই-বোনের সবার ছোট চুমকি, সে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে, তার ছোটখাটো আবদার আমরা রক্ষা করার চেষ্টা করতাম, নাটক করতে চাইতো বাধা দিতাম না, আমি মহিমকে চিনি না, এই বিয়ের মধ্যস্ততা করেছে আমার খালাতো বোন জগজ্জীবনপুরের সালমা বেগম। বৃহস্পতিবার আমার বোন আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে, ভাইয়া আমার বাসার সকল মালামাল বাড়িতে নিয়ে আসবো, তোমাকে নৌকা নিয়ে আসতে হবে, এরপর আর ফোন দেয়নি, আমিও দেইনি। মহিমের বাড়ি আমি জানি তেঘরিয়ায়, সে দুয়েকবার আমাদের বাড়ি এসেছিল, বাড়ি তেঘরিয়াই বলেছে’।
জগজ্জীবনপুরের সালমা বেগম বলেন,‘মহিমের বাড়িতে আমি যাইনি, ওয়েজখালির নোমান বিয়ের মধ্যস্ততা করেছে, আমার বোনও বিয়েতে রাজি হয়ে গেছে, পরে তারা কোর্ট ম্যারেজ করেছে, তাদের অনুরোধে আমি আমার শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে কোর্টে গিয়ে বিয়ের স্বাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর দেই’।
জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রিংকু তালুকদার জানান, চুমকি বেগম বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সদর উপজেলা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন, মহিমও সদর উপজেলা সৈনিকলীগের যুগ্ম সম্পাদক, এরা দুজনেই নাট্যকর্মী।
সদর উপজেলা সৈনিক লীগের সভাপতি নোমান হাসান বলেন,‘মহিম ও চুমকি ওয়েজখালী সুরমা নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য ছিল। চুমকির বাড়ি সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নরুল্লা গ্রামে। সে ঐ গ্রামের হারুনুর রশিদের মেয়ে, ৭ মাস আগে মাহিম বিয়ে করে চুমকিকে। বিডি ফুডে চাকুরি করতো মহিম। এক সময় বড়পাড়ায় ভাড়া থাকতো। কয়েক মাস আগে ওয়েজখালির তালেব হোসেনের বাড়িতে এসে ভাড়ায় উঠে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও এরা ঐ বাড়িতে মালামাল আনতে গিয়েছিল। ২ মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় বাড়ির মালিক আসবাবপত্র আনতে দেননি। সৈনিক লীগে নিস্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় কিছুদিন আগে কমিটি থেকে তাদের দু’জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে’।
সদর থানার সাবইন্সপেক্টর মোমিনুল ইসলাম জানান, মহিমের ওয়েজখালির ভাড়া বাড়ি থেকে তার ভোটার আইডি উদ্ধার করা হয়েছে। ভোটার আইডিতে পিতার নাম লেখা রয়েছে ফুল মিয়া। বাড়ি পশ্চিম হাজী পাড়া। সাবইন্সপেক্টর মোমিন বলেন,‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে, মহিমের একটি মুঠোফোন নম্বর পাওয়া গেছে, তদন্তের স্বার্থে এটি প্রকাশ করা যাচ্ছে না’।