স্টাফ রিপোর্টার
জনগুরুত্বপূর্ণ আব্দুজ জহুর সেতুর দু’পাশ দখল করে গড়ে ওঠেছে অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড। সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলার মানুষ চলাচল করেন সেতু দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির যেখানে সেখানে অবৈধভাবে সিএনজি চালিত অটোরিকশা পার্ক করে যাত্রী তোলা ও নামানোয় সংকোচিত হয়ে গেছে চলাচলের সড়ক। যাত্রী আগে তোলার জন্য সেতুর মল্লিকপুর অংশের প্রবেশ মুখেই দাঁড়িয়ে থাকে এই সিএনজি অটোরিকশাগুলো। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অবৈধ স্ট্যান্ডকে ঘিরে ঘটছে মারামারি-হানাহানি। হয়রানির শিকার হচ্ছেন টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সীমান্ত এলাকায় গমনেচ্ছু ভ্রমণ প্রিয় দর্শনার্থীরা।
শুধু স্ট্যান্ড নির্মাণই নয়, স্ট্যান্ডের সিন্ডিকেটের কারণে জিম্মি হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী। স্ট্যান্ডে থাকা সিএনজি অটোরিকশার বাইরে অন্য কোনো ইজিবাইক বা সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পার হতে পারে না সেতু। যাত্রীদের ইচ্ছা না থাকলেও স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি দিয়েই যেতে হয় গন্তব্যে। এতে ইচ্ছামত ভাড়া নির্ধারণ করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে গাড়িগুলো।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দু’পাশের দখলে রয়েছে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা। সেসব গাড়ি থেকে নিয়মিত তোলা হচ্ছে চাঁদা। যে যেভাবে পারছে, গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলছে। সড়ক আইন ও নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই গড়ে ওঠেছে স্ট্যান্ড। স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে বসেছে বেশ কয়েকটি দোকান।
শুক্রবার বিকালে এক দম্পতি বিশ্বম্ভপুরের হাওর বিলাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুজ জহুর সেতুতে আসেন। ইজিবাইক থেকে নেমে সিএনজি অটোরিকশা নিতে চাইলে চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা নিতে অসম্মতি জানালে ক্ষেপে যায় চালকরা। একপর্যায়ে স্ট্যান্ডের চালক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং ওই নারী হেনস্তার শিকার হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী নারী বললেন, আমরা হাওর বিলাসে ঘুরতে যাওয়ার জন্য সিএনজি অটোরিকশা নিতে চেয়েছিলাম। ভাড়া বেশি চাওয়ায় আমাদেও বহনকারী ইজিবাইকটি নিয়ে যেতে চাইলে সেতুতে থাকা স্ট্যান্ডের চালকরা বাধা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। প্রতিবাদ করলে আমাদের উপর আক্রমণ করে। এখানে যাত্রীদের কোনো স্বাধীনতা নেই। তারা যেমনভাবে চায়, তেমনভাবেই যেতে হবে।
ইজিবাইক চালক রিপন বললেন, আমাদের ইজিবাইক তারা সেতুর উপর দিয়ে চলতে দেয় না। এটা নাকি নিয়ম। মাঝে মাঝে কাছাকাছি কোনো জায়গার কথা বললে, তারা যেতে দেয়।
স্ট্যান্ডের সিএনজি অটোরিকশা চালক রুবেল বললেন, এখানে আমাদের সিএনজি স্ট্যান্ড। এখানে অন্য কেউ যাত্রী নিতে পারবে না। এটা আমাদের মালিক সমিতির নির্দেশ।
এ ব্যাপারে জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও টেক্সী ক্যাব মালিক সমিতির সভাপতি তাজুদ ইসলাম জানান, আব্দুজ জহুর সেতুর উপর তাদের কোনো স্ট্যান্ড নেই। তারাও বারবার চালকদের সতর্ক করেন সেতুর উপরে গাড়ি না রাখতে। সেতুর উপর যেন স্ট্যান্ড না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নিবেন।
সুনামগঞ্জ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক মুহিবুল ইসলাম বললেন, আমরা গেলেই সেতুতে কোনো গাড়ি থাকে না। আমাদের দেখলে তারা পালিয়ে যায়। আমরা চলে আসলে আবার গাড়িও আসে। তবে যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী দিন থেকে সেতুতে আমাদের আরও কঠিন মনিটরিং থাকবে।
- শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলো চেয়ারম্যান
- মুক্তিযুদ্ধার তালিকায় ‘রাজাকারের’ নাম/ অভিযোগ করায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতা স্থগিত !


