আমনের বাম্পার ফলন সামঞ্জস্য নেই ধানের সঙ্গে চালের দামের

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে আমনের বাম্পার ফলন হলেও চালের দাম কমে নি। ধানের দামের সঙ্গে খুচরা বাজারে চালের দামের সামঞ্জস্যও নেই। হাওরের বিভিন্ন উপজেলায় আমন ধানের দাম প্রকারভেদে প্রতি মণ এক হাজার একশ থেকে এক হাজার দুইশ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। অথচ চাল বিক্রয় হচ্ছে ৫০ কেজির বস্তা দুই হাজার পাঁচশ থেকে দুই হাজার ছয়শ টাকায়। স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, ধানের দাম প্রতিমণ এক হাজার একশ পঞ্চাশ টাকা হলেও চালের ৫০ কেজির বস্তার দাম দুই হাজার দুইশ টাকার বেশি হতে পারে না।
জেলায় এবার আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। চাষাবাদ হয়েছে ৮২ হাজার ২১৫ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৯৯ মে.টন থাকলেও জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উৎপাদন দুই লাখ মে.টন ছাড়িয়ে যাবে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী আগামী ২০ ডিসেম্বর ধান কাটা শেষ হবে।
জেলার গ্রামাঞ্চলে এই সময়ে ধানের দাম এক হাজার একশ থেকে এক হাজার দুইশ টাকা মণ। খাদ্য বিভাগ ১৭ নভেম্বর থেকে আমন ধান কেনা শুরু করেছে। তিন হাজার আটশ ৪৩ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা তাদের। ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা জেলায় এক হাজার টন ধান কেনা হয়েছে। কেনা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম ভুইয়া জানিয়েছেন, বাজারে ধানের মূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষকদের সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান দিতে আগ্রহ কম।
এদিকে, আমনের এই ভরা মৌসুমেও সুনামগঞ্জে চালের দাম কমেনি। ধানের দাম ও চালের দামেও রয়েছে অসমাজ্ঞস্যতা। শনিবার সুনামগঞ্জের বাজারে স্থানীয় চালের মধ্যে ২৯ জাতের চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা, ৫০ কেজির বস্তা বিক্রয় হচ্ছিল দুই হাজার তিনশ টাকা। ২৮ জাতের চাল কেজি ৫৫ টাকা এবং ৫০ কেজির বস্তা দুই হাজার চারশ টাকা।
সুনামগঞ্জের বিশ^ম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলার কৃষক সালেহ আহমদ বললেন, কৃষকরা ধানের দাম কম পাচ্ছে। অথচ ভোক্তারাও বেশি দামে কিনছে। মাঝখানে কিছু মানুষ বেশি লাভ করছে। প্রকৃতপক্ষে ধানের দামের সঙ্গে চালের দামের সামঞ্জস্য নেই।
তিনি জানালেন, দেড়মণ ধানে একমণ চাল হয়। ধানের দাম এক হাজার দুইশ টাকা হলে, চালের দাম হয় প্রতি কেজি প্রায় ৪৫ টাকা। সে হিসাবে ৫০ টাকা কেজির বেশি কোনভাবেই কোন বিক্রেতা চাল বিক্রয় করা ঠিক হবে না। কিন্তু বাজারে এই চাল ৫৫ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।
জেলার দোয়ারাবাজারের ভাই ভাই অটো রাইস মিলের মালিক ও চালের আড়তদার কবির মিয়া দাবি করলেন, তারা বেশি দামে চাল বিক্রয় করছেন না। দোয়ারাবাজারে আমন আবাদ হয় অর্ধেক জমিতে। এই সময়ে এক হাজার দুইশ টাকা মণে ২৯ ও ৪৯ জাতের আমণ ধান কিনছেন তারা। দেড় মণ ধানে হয় এক মণ চাল। সকল খরচ হিসাব করে ৫০ কেজির চালের বস্তা দুই হাজার দুইশ থেকে দুই হাজার তিনশ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। একই মন্তব্য করলেন দোয়ারাবাজারের পাইকারী চাল বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারাবাজারের প্রতিটি চালের দোকানে শনিবার ২৮ ও ৪৯ জাতের স্থানীয় চাল বিক্রয় হয়েছে ৫৫ টাকা। ২৮ মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৫৬ টাকা, ৫০ কেজির বস্তা বিক্রয় হচ্ছে দুই হাজার আটশ টাকা, খানের জিরা সাইল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা, ৫০ কেজির বস্তা বিক্রয় হয়েছে তিন হাজার সাতশ টাকা।
সুনামগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম বললেন, সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকায় অন্যান্য জেলার চাল বিক্রয় হয়। স্থানীয় জাতের ধান ও চালের দামে যাতে সামঞ্জস্য থাকে সেভাবে বাজার মনিটরিংয়ে রাখবো আমরা।