আমপাড়ায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চারা উৎপাদন

আকরাম উদ্দিন
আধুনিক পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের মাটিবিহীন ট্রে’র মধ্যে কোকোপিট ব্যবহার করে সারা বছর সব ধরণের হাইব্রিড সবজি চারা উৎপাদন করে আসছে ‘গ্রীন হিল সীডলিং ফার্ম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের জুন মাসে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের আমপাড়া এলাকায় এই আধুনিক পদ্ধতির চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে।
পরীক্ষামূলক দেড় কেয়ার জমির ১৫ শতাংশে চারা উৎপাদন এবং এক কেয়ার জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। ফলনও ভাল হয়েছে।
ফার্মের মালিক হাসান আহমদ জানান, ফার্মে দেশী ও বিদেশী তিন রকমের পেঁপে চারাসহ বিভিন্ন রকমের সবজির চারা উৎপাদন করে আসছেন। তিনি প্রতিটি চারা দেড় টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। উৎপাদিত চারায় কোনো মাটি ব্যবহার করছেন না। কোকোপিট ও বার্মি কম্পোস্ট (নারকেলের ছোলা ও জৈব সার) ব্যবহার করছেন চারা উৎপাদনে।
তিনি জানান, এই চারা দিয়ে বিষমুক্ত সবজি চাষ সম্ভব। গত বছর তিনি ৫ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক বিষমুক্ত টমেটোর চাষ করেছিলেন। ভাল ফলন হয়েছিল। তাঁর দাবি এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করলে চারা শতভাগ রোগমুক্ত থাকবে এবং চারা শিকড়যুক্ত থাকবে। পানিবাহিত কোনো রোগে আক্রমণ করতে পারবে না। এই চারা উচ্চ ফলনশীল। তিনি আরও জানান, গ্রাফটিং বা জোড়-কলম পদ্ধতির টমেটোর চারা, উচ্চমাত্রার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু এবং গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ ফলন দিয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে গ্রাফটিং টমেটো চাষ অত্যন্ত লাভজনক।
ফার্মে টমেটো, গ্রাফটিং টমেটো, চেরী টমেটো, ফুলকপি, বাঁধা কপি, ব্রোকলি, মরিচ, বেগুন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, শশা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি ও পেঁপে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।
আমপাড়ার কৃষক শামীম আহমদ জানান, তিনি ১৫ শতাংশ জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করেছিলেন। এই পদ্ধতির চারা উচ্চফলনশীল এবং রোগমুক্ত ও নিরাপদ। এমন কথা জানান, একই গ্রামের চাষী আবুল কাশেম। তিনিও এই পদ্ধতির চারা নিয়ে এবার সবজি চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছেন।