মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা পালনকারী ও দেশের বরেণ্য সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী ৮১ বছর বয়সে গত ০১ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সুনামগঞ্জ অঞ্চল যে ক’জন মহান ব্যক্তির জন্য চিরকাল গর্ব অনুভব করবে সালেহ চৌধুরী তাঁদের অন্যতম। তিনি দিরাই উপজেলার গচিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। একাত্তরে তিনি ছিলেন কলমসৈনিক। সেদিন দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে কলম ছেড়ে তিনি অস্ত্র ধরেছিলেন। নিজ এলাকায় থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। বালাট সাবসেক্টরের আওতায় তাকে বিশেষ সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়ে দিরাই-শাল্লা-জামালগঞ্জ-সদরের বিস্তৃত হাওর এলাকায় গেরিলা অপারেশন চালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সাহসিকতার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধ শেষে অস্ত্র সমর্পন করে আবারও ফিরে গেছেন নিজের সাংবাদিকতা জীবনে। কখনও আত্মম্ভরিতায় আক্রান্ত হননি তিনি। আত্মপ্রচারের পরিবর্তে অনেকটা অন্তরালেই থাকতে ভালবাসতেন। তাই বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো এই বীর সন্তানের কথা সবিস্তৃত জানেন না। অথচ এই ধরনের ব্যক্তিকে নিয়ে যত বেশি আলোচনা হবে তত সমৃদ্ধি ঘটবে আমাদের চেতনার, মননের।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ তাঁর নিকট। পত্রিকাটি নিজের জন্মলগ্ন থেকেই এই মহান ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতা ও ¯েœহাশীষ পেয়ে ধন্য হয়েছে। আমাদের প্রতি তাঁর শুভাশীষ ছিলো নিত্য বহমান। তিনি যেমন আমাদেরকে লেখা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন তেমনি আমাদের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে স্বয়ং উপস্থিত থেকে কৃতজ্ঞ করেছেন। ২০১৬ সনের অনুষ্ঠানে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতির কথা এখনও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। আমরা সকৃতজ্ঞচিত্তে এই গুণীজনের স্মৃতিতে সবিশেষ শ্রদ্ধা জানাই।
মুক্তিযোদ্ধা সালেহ চৌধুরীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত চর্চার আহ্বান জানাই আমরা। ব্যক্তিকে চির জাগরুক রাখার মাধ্যম হচ্ছে তাঁর আদর্শকে ধারণ করা। আর তিনি যদি হন একটি জাতির মুক্তির প্রয়াসের সৈনিক, তখন সেটি আরও বেশি অপরিহার্য হয়ে উঠে। আসুন আদর্শচারীতার মাধ্যমেই সালেহ চৌধুরীকে চির ভাস্বর রাখি।


