আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?

সুনামগঞ্জের নব যোগদানকৃত সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদ আহমদ কল্লোল দায়িত্ব গ্রহণের পর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে একটি সুন্দর স্বাস্থ্যবান্ধব পরিসেবা কাঠামো গঠনই তাঁর মূল লক্ষ। তাঁর এই বক্তব্যটি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর আরও কিছু সুন্দর কথাবার্তা ফেসবুকে প্রচারিত হতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জনের পোস্টে। নিজের পারিবারিক সততা ও ঐতিহ্যের উল্লেখ করে তিনি দুর্নীতির সাথে আপোশ না করার কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে এসব পোস্টে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হারাম একটি পয়সাও তার পকেটে ঢুকবে না। সিভিল সার্জনের এসব কথাবার্তা আমাদেরকে আশান্বিত করেছিল দারুণভাবে। বিশেষ করে সদ্য সাবেক সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে সদর হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে ব্যাপক আন্দোলনের পর এই জায়গায় একজন পরিচ্ছন্ন ইমেজের কর্মকর্তাকেই দেখতে চেয়েছেন জেলাবাসী। ডা. কল্লোলের প্রারম্ভিক কথাবার্তার মধ্যে মানুষ এক ধরনের ইতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ দেখেছেন।
সুনামগঞ্জের একজন বিশিষ্ট নাগরিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু তাঁর নিজের ফেসবুকে সম্প্রতি একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, পাকিস্তান আমলে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছিল। সেই আমলে এখানে ডাক্তার থাকলেও স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এসিসটেন্ট নির্ভর ছিল। কিছুদিন আগে বিশেষ বিসিএস’র মাধ্যমে জেলায় পদায়িত ৫৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে ডা. এস.এম. মুনিরা নামের একজন চিকিৎসককে লক্ষ্মীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পদায়ন করা হয়। জনাব খসরু আগ্রহভরে ওই চিকিৎসকের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য সম্প্রতি ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চিকিৎসককে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পেলেন না। গ্রামের মানুষও এখানে চিকিৎসক পদায়নের বিষয়টি জানেন না। তিনি জানলেন, পদায়িত চিকিৎসক কাগজে-পত্রে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগদান করেছেন কিন্তু কোনো দিনই এখানে আসেননি। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জনকে ফোন করলে এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন কিছুই জানেন না বলে জনাব খসরু তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন। বলাবাহুল্য জনাব খসরু যে সিভিল সার্জনকে ফোন দিয়েছিলেন তিনিই ডা. তৌহিদ আহমদ কল্লোল।
নব যোগদানকৃত সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সেবাবান্ধব কর্মপরিবেশের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটি বাস্তবায়নের জন্য তাঁর এই বিভাগের সকল খবরাখবর জানা থাকা উচিত। একটি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক যোগদান করে একদিনও সেখানে দায়িত্ব পালন না করা একটি বড় খবর। এই খবরটি যদি জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা না জানেন তাহলে তিনি উপযুক্ত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন কীভাবে ? এ কথা সত্য, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি চেইন অব কমান্ড থাকে। উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকের কর্মস্থলে অবস্থানের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। তিনি ব্যর্থ হলে বিষয়টি সিভিল সার্জনকে অবগত করতে হবে। সম্ভবত উপজেলা থেকে এই খবরটি সিভিল সার্জন পর্যন্ত এসে পৌঁছায়নি। তাই তিনি এ বিষয়ে অনবহিতই থেকে গেছেন। শৃঙ্খলা ফিরানোর জন্য তাঁকে এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
যেকোনো জায়গায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তির সদিচ্ছার সাথে পুরো সিস্টেমকে সঠিকভাবে কাজ করতে হয়। আমরা জানি স্বাস্থ্য বিভাগে যে সিস্টেম কার্যকর আছে তা নিয়ে জনগণের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সেই সিস্টেমের বিরুদ্ধে যেয়ে অনেক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা টিকে থাকতে পারেন না বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ডা. কল্লোল নিশ্চয়ই এই বিরূপ পরিবেশ-পরিস্থিতিগুলো ভাল করেই জানেন। আমরা মনে করি নিজের সুনাম বজায় রাখতে তাঁকে কঠোর সংগ্রাম করতে হবে বিরুদ্ধ ¯্রােতের সাথে। মাঝপথে তিনি থমকে যান আমরা এটি দেখতে চাই না। তাঁর ইতিবাচক মনোভাবকে আমরা যেমন প্রশংসা করি তেমনি তাঁর সব ভাল কর্মকা-কে আমরা অব্যাহত সমর্থন জুগিয়ে যাব।
আমরা শুধু তাঁকে কুসুমকুমারী দাশের আদর্শ ছেলে কবিতার সেই অমর পঙ্ক্তিটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাইÑ আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?