হাসান হামিদ
আমার বাবা ছবির ফ্রেমেও হাসতেন।
শুনেছি মায়ের মুখে; বিশাল স্পষ্টতা, সততা,
দায়িত্ববোধ আর উদাসীনতা নিয়ে
আমার ‘প্রেমিক বাবা’ কেমন মধুর করতেন
সংসার নামের বিষফোঁড়ার ঘানিটানার সময়গুলো।
আমার বাবার কোনো চশমা ছিল না;
দাদা ধবধবে পাঞ্জাবি, হাতে রোলেক্স ঘড়ি আর
তাঁর ছিল স্বপ্নভরা শিল্পময় ছলছল চোখ।
মাস শেষে বাবা মায়ের হাতে তুলে দিতেন
শিক্ষকতার মাসিক বেতনের স্বল্প টাকা;
আর মা বেশ জগৎবিখ্যাত অর্থনীতিবিদের মতোই
সীমিত সামোদে আমাদের নষ্ট-কষ্টের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটাতেন।
মাত্র বছর তেতাল্লিশে বাবা মারা যাবার পর
আমার মা সোনার ডিমের মতোন
আগলে রাখতেন আমাদের।
যদিও রাতের অন্ধকারে স্বপ্নের বদলে
মায়ের চোখে লেগে থাকতো কাকভেজা ঘুম;
মায়ের শিয়রে থাকতো তেল চিটচিটে নৈরাশ্যবাদ।
বাবাকে নিয়ে তেমন কোনো স্মৃতি আমার মনে পড়ে না।
বাবা একদিন বারান্দায় পাটি পেতে সুগন্ধী চালের ভাত
শাকপাতায় মেখে আমার মুখে তুলে দিয়েছিলেন, সেটুকুই;
বাড়িতে প্রায়ই এখন সুগন্ধি চাল রান্না হয়,
রকমারি নানা আয়োজনে ভরে ওঠে বিবেক;
আমি কেবল গভীর রাত্রে মটরশুঁটির মতোন জেগে জেগে
বাবার গন্ধ খুঁজে বেড়াই, পাই না
বাবা না থাকার শূন্যতা আমাকে নিশ্চিত ছুড়ে দেয় কারাগারে।
বাবাকে শুনেছি, শত কষ্টেও কখনো কাঁদতেন না।
সমস্ত জীবন সময়ের কঠিন সিঁড়িতে দাঁড়িয়েও
নিরাভরণ হাসির স্নিগ্ধ স্নানে সুখ খুঁজতেন আমার বাবা।
বড় অবাক লাগে, একটা মানুষ সারা জীবনে একবারও কাঁদেনি;
কেবল হেসেছে; জয়ে এবং পরাজয়ে; অভিন্ন উচ্ছ্বাসে।


