আম্বিয়া ভাইছাব

ইশতিয়াক রুপু
আল্লাহের ডাকে চলে গেলেন সুনামগঞ্জ শহরের প্রবীনতম এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান আলহাজ্ব নুরুল হক আম্বিয়া। শহরের কিছু নামের সঙ্গে সর্বস্তরের জন্য ভাইছাব যোগ হয়ে যায়। গতবার দেশে গেলে সুনামগঞ্জ জেলা আদালত প্রাঙ্গণে দেখা হলো সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়া ভাইর সঙ্গে। আলাপের এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করলাম আম্বিয়া ভাইছাব বাসায় নাকি? তিনি হেসে বললেন তুমি ও ভাইছাব ডাকো নি? তোমার আব্বা কে আমরা ভাইছাব ডাকতাম। আমি কোন উত্তর দেই নি। আম্বিয়া ভাইছাব ডাকের সঙ্গে কারো আত্মীয়তার চেয়ে শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভালবাসার অংশ ছিলো বেশি। তাই কিংবদন্তী ফুটবলারের পুরো নাম হয়ে যায় আম্বিয়া ভাইছাব। ৮০ দশকের মধ্য কাল। জেলা কোর্ট মসজিদের ৮০ বছর পূর্বে নির্মিত জামে মসজিদের গুম্বজ দিয়ে পানি পড়ে বলে মুসল্লীরা নামাজ পড়তে পারেন না। জেলা প্রশাসক মোশতাক সাহেব উদ্যোগ নিলেন। সভা ডাকা হলো জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে। বাজেট হলো। সিদ্ধান্ত হলো গুম্বজ তিনটি ভেঙ্গে ফেলে নতুন ভাবে তৈরী করা হবে। অনেকের বিষয়টি মনপুত হলো না। পূর্ত বিভাগে ছিলেন হবিগঞ্জ বাড়ি একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাধ সাধলেন। পরীক্ষা করে জানালেন ভাঙ্গতে হবে না। মেরামত করলে চলবে। ডিসি সাহেব চাইলেন তারা মসজিদের আদলে আবার বানানো হউক মসজিদটি। তাই হলো আমি ও আম্বিয়া ভাইছাব ঢাকার পোস্তাগোলা থেকে নিয়ে আসলাম গুম্বজ, তারা দিয়ে সাজানোর কারিগর কে। কোর্ট মসজিদের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাইছাব ছিলেন মসজিদের খেদমতে।
আমাকে সব কিছুতে ডাকতেন। বিশ্বাস করতেন। আদর করতেন। ভালবাসতেন। সাইকেলে চড়ে বাজারের দোকান তমান্না ট্রেডার্সে আসতেন প্রতিদিন। ভাইছাব কে শেষ বারের মত দেখার বড্ড ইচ্ছে। করোনার এই সময়ে আল্লাহ কি আমাদের ইচ্ছা পূরণ করবেন। আল্লাহ জানেন। দোয়া করি আল্লাহের ঘরের খেদমত কারী একজন সৎ ব্যক্তিত্বের নসীবে যেন বেহেস্ত নসীব হয়। আমিন।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিষ্ট