আলমপুরে বিনাধান-৭ এর মাঠ দিবস

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল আমন জাত বিনাধান-৭ এর প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (সিসিটিএফ) এর অর্থায়নে, বিনা সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্র ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আলমপুর (নূরপুর) গ্রামে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
বিনা সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বৈজ্ঞানিক সহকারি শাহ কামরান আহমদের পরিচালনায় মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্য    
 রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মীর বজলুর রশীদ।
স্থানীয় কৃষকের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, আলমপুর গ্রামের কৃষক নেতা রাশিদ মিয়া, কৃষক প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান, শুকুর মিয়া মাস্টার ও কৃষক লুৎফুর রহমান প্রমুখ।
বিনাধান-৭ চাষাবাদকারী কৃষক লুৎফুর রহমান বলেন,‘ তার জমিতে বিনাধান-৭ এর ভালো ফলন হয়েছে এবং এই ধান অন্য ধানের চেয়ে অনেক দিনে পেকেছে। তিনি এই ধান কাটার পর একই জমিতে সরিষা চাষাবাদ করবেন।’  
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক বলেন,‘দিন দিন আবাদি জমি কমে যাওয়া ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করা প্রয়োজন। এজন্য স্বল্পকালীন বিভিন্ন ফসলের জাতের প্রয়োজন। বিনা এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ফসলের স্বল্পকালীন উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার কৃষির উন্নয়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে সামনে রেখে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন,‘আমনের স্বল্প মেয়াদকালীন উচ্চফলনশীল জাত বিনাধান-৭, এর জীবনকাল ১১৫-১২০ দিন, গড় ফলন হেক্টরে ৫ টন। কৃষকরা যদিস্বল্পমেয়াদি বিনাধান-৭ চাষ করেন তাহলে আমন ধান কাটার পর সরিষা, মুগ, মাষকালাই, মসুর ইত্যাদি চাষ করে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি করতে পারেন। এতে পতিত জমি আবাদ হবে এবং কৃষক অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হবে।’