লোকসানের ভয়ে হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করছেন না কৃষকরা। এতে সারা দেশে এবার ২০ লাখ টন আলু নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)। আর আলু উত্তোলন না করায় হিমাগার কর্তৃপক্ষও পড়েছে বেকায়দায়। দেশে এখন বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়। এ আলুর বৃহৎ অংশ হিমাগারে রাখা হয়। চলতি বছর আলুর দাম ও চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অধিকন্তু রফতানি চাহিদা কমে যাওয়া এবং আলুর বিকল্প ব্যবহার না থাকায় বাজারে আলুর চাহিদা এখন প্রায় শূন্যের কোটায়। এ অবস্থায় বাড়তি মজুদ নিয়ে এখন হিমাগার মালিক ও কৃষক উভয়ই সংকটের মধ্যে আছেন। এমন পরিস্থিতি তৈরির প্রধান কারণ আলু নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা না করা।
তথ্য বলছে, প্রতি বছর দেশে আলু উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু বাজার সম্প্রসারণ ও আলু ব্যবহারে বহুমুখিতার ওপর জোর দেয়া হয়নি। এখনো স্থানীয় বাজার আলুর বড় বাজার। স্থানীয় বাজারের ওপরই কৃষকদের নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ আলুর রফতানি বাজার সম্প্রসারণ করা হলে আজ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। দেশে যেহেতু এখন বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হচ্ছে, তাই সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে আলুর রফতানি বাজার সম্প্রসারণে জোর দেয়া। পাশাপাশি খোলাবাজারে এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মকা-ে আলু বিক্রির সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আলুর স্টার্চ, চিপস, ফ্লেক্স ও বিকল্প খাদ্য তৈরিতে শিল্প স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে সরকারকে। আরো কীভাবে আলুর ব্যবহার বাড়ানো যায়, তা নিয়ে গবেষণারও প্রয়োজন রয়েছে। আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। চালের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আলু ব্যবহার বাড়াতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। সরকারের উচিত হবে এমন সব পদক্ষেপ নেয়া, যাতে কৃষকদের আর আলু ফেলে দিতে হবে না। আমাদের মতো দরিদ্র দেশে আলু নষ্ট করার মতো বিলাসিতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অন্যদিকে হিমাগার কর্তৃপক্ষের দিকেও তাকাতে হবে। ব্যাংকঋণ নিয়ে হিমাগার পরিচালনা করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কৃষকরা তাদের নিজস্ব অর্থ ছাড়াও এনজিও কিংবা অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নিয়ে হিমাগারে আলু মজুদ রেখেছেন। সুতরাং লোকসান হলে সবাই আক্রান্ত হবে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা আলু উৎপাদন করতে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে আলুর দাম বেড়ে গেলে নিম্নবিত্ত মানুষ আরো বড় সংকটে পড়বে।
আমাদের খাবারের তালিকার অপরিহার্য অংশ আলু। কিন্তু শুধু একমুখী ব্যবহার আলুর বাজার চাঙ্গা করতে পারবে না। তাই সরকারের উচিত রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেয়া।

