শহীদ নূর আহমেদ
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের আশাউড়া এলাকায় চাষ হয় সুমিষ্ট আনারস। জৈষ্ঠের মাঝামাঝি ও আষাঢ়ের শেষ সময় পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরের বাজারের উঠতে দেখা যায় এই রসালো ফলটি। দেশে বিভিন্ন স্থানে চাষ হওয়া আনারসের চেয়ে আশাউড়ার আনারস অধিক মিষ্টি হওয়ায় স্থানীয় ও সারা দেশের হাটবাজারের এর চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর রফতানি হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। ইতোমধ্যে দেশের এই বাজারগুলোতে অন্যান্য আনারসকে ছাড়িয়ে নিজের অবস্থান করে নিয়েছে সুনামগঞ্জের আশাউড়ার আনারস। চাষাবাদে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও চাষীদের আর্থিক সহযোগিতা দিলে ভবিষ্যতে আনারসের চাষ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা ক্রেতা-বিক্রেতা ও আনারস চাষীদের।
রবিবার আনারস কিনতে
শহরের ফুটপাতের বাজারের ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উকিলপাড়া মোড়, জুবিলী স্কুলের সামনা , আলফাত স্কয়ার ও শহরের ফলের বাজারে আশাউড়ার আনারস বিক্রি করতে নিয়ে আসেন ফল বিক্রেতারা। আমদানীকৃত আনারসের চেয়ে আশাউড়ার আনারসের দাম তুলনামুলক বেশি । ছোট বড় আকারে এই আনারসের দামের ক্ষেত্রে তারতম্য দেখা যায়। সর্বনি¤œ ১২০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় এক হালি আনারস বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে তুলনামুলক দাম বেশি হলেও আশাউড়ার আনারস খেতে অনেক রসালো ও মিষ্টি বলে জানান একাধিক ক্রেতা। আব্দুল জব্বার নামে এক বৃদ্ধ দুই হালি আনারস কিনে বলেন,আমি সাড়ে তিন‘শ টাকায় দুই হালি আনারশ কিনেছি। আনারসের দাম একটু বেশি । তবে আশাউড়ার আনারস খেতে অনেক মিষ্টি। যা অন্য আনারসে পাওয়া যায় না। আব্দুল জলিল নামে আরেক ক্রেতা বলেন, আশাউড়া আনারসের একটি বড় গুণ হলো এই আনারস বাজার থেকে কিনে একদুদিন পরে খেলে আরো মিষ্টি হয়। এই আনারস যতদিন বাজারে থাকে ততদিন অন্য আনারস আমি কিনি না। তবে এই আনারস বাজারে মাত্র একমাস পাওয়া যায়। আরো কিছু দিন থাকলে ভাল হতো।
রজব আলী নামে এক আনারস চাষী বলেন, আশাউড়ার আনারসে আমরা কোন ধরনের সার ব্যবহার করি না। প্রক্রিয়াজাতকরণে কোন ধরনের ফরমালিন ব্যবহৃত হয় না। তাই এর স্বাদ অটুট থাকে। চাষীর সংখ্যা কম । সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে আনারস চাষে আরো চাষিরা এগিয়ে আসবে।


