Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে বাড়িতেই ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন বন্যার্তরা – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে বাড়িতেই ঝুঁকি নিয়ে থাকছেন বন্যার্তরা

বিশেষ প্রতিনিধি
তিন দফা বন্যায় একেবারে নাখাল অবস্থা সুনামগঞ্জের লাখো মানুষের। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল সকল পর্যায়ের মানুষের একই অবস্থা। জেলা প্রশাসনের বন্যা তথ্য কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা এক লাখ ১৩ হাজার ২৩৭ বলা হলেও বেসরকারি বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
জেলায় বুধবার বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ৩১২ টি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গতরা আশ্রয় নিলেও তিনদফা বন্যায় পচে যাওয়া কাচা ঘরে ঝুঁকি নিয়ে আছেন লাখো পরিবার। দুর্গত এলাকার বাসিন্দরা বলেছেন, আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে ঝুঁকি নিয়ে নিজের বাড়িতেই আছেন বেশি মানুষ। বিশ^ম্ভরপুরের নতুন হাটির আব্দুর রহিম তিন দফা বন্যায় দুর্ভোগ পোহালেও আশ্রয়কেন্দ্রে যান নি তিনি।
বললেন, আশ্রয় কেন্দ্রে গেলে করোনা নিয়ে ফেরার ভয় আছে, এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে গ্রামের যারা গেছেন, তারা ওখানে সহায়তাও খুব একটা পান নি, নিজেদের খাবার-দাবার নিজেরাই ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এজন্য ঘরে কোমর সমান পানি থাকলেও পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে চৌকির উপর চৌকি তুলে ঘরেই আছেন। প্রথম দফা বন্যা আসার পর ২ টি গরু ছিল, দুটিই বিক্রি করে দেওয়ায় কিছুটা রক্ষা হয়েছে। তবে আফালে ঘরের ভেড়া ভেঙে ফেলেছে, ঘরটিও যে কোন সময় পড়ে যেতে পারে। আব্দুর রহিম জানালেন, গ্রামের ২০-২৫ বাড়ির ঘরে কোমর সমান পানি। ২-৩ পরিবার ছাড়া অন্যরা সকলেই বাড়িতে আছে। এই উপজেলার উপজেলা পরিষদের ভবনেও হাটু সমান পানি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনেরও একই অবস্থা। থানায় ওঠেছে পানি। হাতে গোনা কিছু দোতলা ছাড়া, অন্য সকলেই ঘরে পানি নিয়েই ভেতরে আছেন।
উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। ছাতক, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, দিরাই-শাল্লার চিত্রও একই রকমের।
সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর, ষোলঘর, কাজীরপয়েন্ট, উকিলপাড়া, উত্তর আরপিননগর নতুন হাছননগর, বড়পাড়া, পশ্চিম হাজীপাড়া, পূর্ব, পশ্চিম নতুনপাড়া, শান্তিবাগ, বাঁধনপাড়া এলাকার বেশিরভাগ বাড়িতে এবং সড়কে আবারও হাটু থেকে কোমর সমান পানি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী দুই দিন সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হবে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের আসাম চেরাপুঞ্জিতে ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, বুধবার বিকাল ৩ টায় সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি আবার বিপদ সীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১২০ মিলিমিটার, আসামে হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার।
সুনামগঞ্জে ভারী বর্ষণ এবং উজানের অর্থাৎ ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গত ২৮ জুন প্রথম দফা বন্যা হয়। দ্বিতীয় দফায় একই কারণে বন্যা হয় ১০ জুলাই। দুই দফা বন্যায় লাখো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হন।