স্টাফ রিপোর্টার
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তালেবের নামে আহসানমারা সেতু’র নামকরণের প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এই প্রস্তাব করলে সদর উপজেলা আ.লীগ সভাপতি ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম প্রস্তাবটি সমর্থন করেন। পরে সর্বমসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব সিদ্ধান্ত আকারে গৃহিত হয়।
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভা শুরু হয়।
নির্ধারিত আলোচনা সভা শেষে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক সভায় শহীদ তালেবের নামে আহসানমারা সেতু’র নামকরণের প্রস্তাব করেন। প্রসঙ্গত. ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তালেব আহমদকে ধরে
এনে শহর প্রদক্ষিণের মাধ্যমে চরম অপমাণ করে শহরের পিটিআই টর্চারসেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ৫ ডিসেম্বর রাতে পাক বাহিনী আহসানমারা ফেরিঘাটের দক্ষিণ তীরে মুক্তিযোদ্ধা তালেব আহমদসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে যায়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সেতুটি’র নির্মাণাধীন সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শহীদ তালেবের নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে এসেছিলেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক বলেন,‘মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র, সুনামগঞ্জের আহ্বায়ক বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু এবং মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান এই প্রস্তাবটি সমন্বয় সভায় উত্থাপনের জন্য আমাকে বলে আসছিলেন। আমি অনুভব করেছি এটি সময়োচিত দাবী, সোমবার সমন্বয় সভায় এই প্রস্তাব উত্থাপন হলে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়’।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যক্ষ ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতভাবে আহ্সানমারা সেতু শহীদ তালেব সেতু নামে নামকরণের প্রস্তাব গৃহিত হয়। এখন এটি মন্ত্রণালয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে’।


