গত ১ নভেম্বর থেকে সারা দেশে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এই মেলার পরিধি ৭ দিন হলেও জেলা ও উপজেলায় এর মেয়াদ ক্ষেত্রবিশেষে ৪, ২ ও ১ দিন। সুনামগঞ্জে মেলা চলবে সামনের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। মূলত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সহজে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও কর পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করতেই সরকার প্রতিবছর এই মেলার আয়োজন করে থাকে। আয়কর মেলার কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান মেলা থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা আয়কর আদায়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দেশে যে পরিমাণ টিআইএন নম্বরধারী আয়করদাতা রয়েছেন তারা যদি নিজেদের প্রকৃত আয়ের অনুপাতে আয়কর জমা দেন তাহলে আদায়ের পরিমাণ মন্ত্রীর প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যথাযথ পরিমাণে আয়কর পরিশোধ করে নাগরিক কর্তব্য পালনে নিদারুন অবহেলা দেখিয়ে থাকেন। যে ডাক্তার প্রতিদিন প্রাইভেট চেম্বারে ১০০ রোগী দেখে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন কিংবা যে ব্যবসায়ীর আলীশান বাড়ি-গাড়ি ব্যাংকব্যালেন্স আর জৌলুষপূর্ণ জীবন যাপন ব্যবস্থা রয়েছে তিনি বছর শেষে কত টাকা আয়কর দেন তা জানলে যে কেউ লজ্জা পাবেন। এই অবস্থা প্রতিটি পেশাজীবি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেই বিরাজমান। নিছক নিয়ম রক্ষা করার জন্য অনেকে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও নামেমাত্র কর পরিশোধ করে থাকেন, এমন অভিমত অভিজ্ঞদের। অভিযোগ রয়েছে, ধনবানরা আয়কর রিটার্ন ও হিসাবের খাতাপত্র প্রস্তুত করতে পরামর্শক খাতে যে অর্থ ব্যয় করে থাকেন তার সমপরিমাণ অর্থও তারা সরকারি কোষাগারে আয়কর হিসেবে জমা দেন না। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক চেহারার জন্য বিশ্রি অবস্থা বটে।
রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস হলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর ব্যবস্থার মাধ্যমে যে রাজস্ব আহরিত হয় তা। আগের চাইতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হয়েছে, আয়কর আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে, করদাতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কর খাত থেকে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব আদায় হচ্ছে, এ কথা বলা যায় নির্দ্ধিধায়। এর প্রতিফলন দেখা যায় বিশাল জাতীয় বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎসের ব্যবহার থেকে। কিন্তু ওই যে বললাম, সকলেই যদি যথাযথ পরিমাণে কর পরিশোধ করতেন তাহলে এই বিশালত্ব আকাশ ছুঁয়ে যেত। আমাদের জাতীয় আত্মনির্ভরশীলতা ও সক্ষমতা তখন আরও উঁচুতে পৌঁছাত। দেশোন্নয়নের জন্য আমাদের কদাপি বিদেশমুখী নতজানু অবস্থান নিতে হত না।
সরকার প্রতিনিয়ত জনগণকে কর পরিশোধের নাগরিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি বুঝাতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু কর প্রশাসনের অভ্যন্তরেই জায়গা করে নেয়া একটি দুর্নীতিবাজ দুষ্টচক্র কখনও চায় না কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। এরাই নানা কায়দায় কর কারসাজিতে সহায়তা দিয়ে থাকে। এই দুষ্টচক্রকে মোকাবিলা করে এখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। অনলাইনে আয়কর পরিশোধ ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করা হতে পারে একটি ভাল ব্যবস্থা। আর সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা ওই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় থেকে উৎসারিত। আমরা আয়কর মেলার সফলতা কামনা করি।
- পদস্থ ৩ প্রকৌশলীর সম্পদের খুঁজে দুদক
- সাধারণের মাঝে এক অনন্যসাধারণ মানুষ আব্দুল হেকিম তালুকদার (১৯১৫-২০১৭)

