বিশেষ প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলা আ.লীগের আহ্বায়ক পদ নিয়ে বিভ্রান্তি শেষ হবে কি ভাবে? গত দুই বছরে বিগত জেলা কমিটি তিন বার গণমাধ্যম তিন রকমের কমিটির কথা বলেছেন। এখনো জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একজনকে এবং সাধারণ সম্পাদক আরেক জনের কথা বলছেন। এই উপজেলায় আহ্বায়ক নিয়ে বিভ্রান্তি থাকায় দলীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রার্থী তালিকা সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুটি জমা হয়েছে। একটি জমা দিয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক। অপরটি জমা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের অপরাংশের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক। দুই তালিকায়ই ৯ জন করে ১৮ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কে? এ নিয়ে বিভ্রান্তি চলছে গত দুই বছর ধরেই। প্রায় ১৫ বছর আগে (২০০০ সালে) দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা অধ্যক্ষ ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীককে আহ্বায়ক এবং অ্যাড. আব্দুল মুমেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি করে দিয়েছিলেন। এরপর আর এই উপজেলায় সম্মেলন হয়নি। গত তিন বছরে উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে কেবল ইউনিয়ন সম্মেলন ও কমিটি গঠন হয়েছে, কিন্তু উপজেলা সম্মেলন হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (বর্তমানে সভাপতি) মতিউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট গত বছরের জানুয়ারি মাসে দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ফরিদ আহমদ তারেককে আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষণা দেন। পরে আবার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘দোয়ারাবাজারের কমিটি বদল হয়নি, এই উপজেলায়ই ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকই আহ্বায়ক’। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে পহেলা ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট বলেন,‘দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইদ্রিছ আলী
বীরপ্রতীকই, তাকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে, দুই পক্ষকে সমন্বয় করে দেবার জন্য। আবার ২ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের ঐ সময়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দুজনেই বলেন,‘দোয়ারাবাজারে ফরিদ আহমদ তারেকই আহ্বায়ক, ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক আসেননি, এজন্য সমন্বয় করা যায়নি’। ২৩ ফেব্রয়ারি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের নেতৃত্বে জেলার ৩ জন এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও অধ্যক্ষ ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করে জেলায় দলের কার্যক্রমের নানা বিষয় জানানোর সময় ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এসময় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা দোয়ারাবাজারে ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকই আহ্বায়ক রয়েছেন বলে জানিয়ে দেন।
গত বুধবার দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউনিয়নের প্রার্থী তালিকা জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়া ও জেলা কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদকের স্বাক্ষরসহ কেন্দ্রে জমা দেবার সময় জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘দোয়ারাবাজারে ফরিদ আহমদ তারেকই আহ্বায়ক’। আবার সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘দোয়ারাবাজারে ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক সাহেবই আহ্বায়ক’। এই অবস্থায় দোয়ারাবাজারের ৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক দুজনের কেউই স্বাক্ষর করেননি।
তবে ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক তালিকা নিজেই কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেন এবং ফরিদ আহমদ তারেকও আরেক তালিকা কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
দোয়ারাবাজারের একজন দলীয় নেতা জানান, তালিকা জমা দেবার পর ফরিদ আহমদ তারেককে নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন সমন্বয়কারী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেছেন। ঐ দিন ফরিদ আহমদের ফেইসবুক আইডিতে এই ধরনের একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছিল।
ফরিদ আহমদ তারেক অবশ্য বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরের কাছে তিনি কোন তালিকা দেননি, তালিকা কেন্দ্রীয় দপ্তরে দিয়েছেন, এসময় অনেক নেতারাই ছিলেন, ঐ সময়েই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছবি উঠিয়েছেন তিনি।
অধ্যক্ষ ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন,‘আমরা অনেক আগেই ইউনিয়ন কমিটির মতামতের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছি, গত ৩-৪ দিন ধরে শুনছি সম্ভাব্য প্রার্থীদেরকে নৌকা প্রতীক এনে দেবার কথা বলে টাকা উঠানো হচ্ছে। আজ (শনিবার) ঢাকায় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মেলন উপলক্ষে এসেছিলাম, কেন্দ্রীয় নেতাদের আমি প্রতীক বিক্রি করার অপচেষ্টার কথা জানিয়ে এসেছি’।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘আমি জানি দোয়ারাবাজারে ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকই আহ্বায়ক, কিন্তু আরেকটি তালিকা আহ্বায়ক দাবী করে আরেকজন দেওয়ায় আমি বলেছি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই সিদ্ধান্ত দেবেন’।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘আমরা ফরিদ আহমদ তারেককে কেন্দ্রের পরামর্শেই আহ্বায়ক দিয়েছিলাম, এখন কেন্দ্র থেকে আবার নাকি ইদ্রিছ আলী’র কথা বলা হয়েছে, এজন্য আমি এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমন দুই জনের দুই তালিকার কোনটাতেই স্বাক্ষর করিনি, আমরা বলেছি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’।
- হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে লুকোচুরি
- আর উড়বেনা জিটুজি-প্লাসের বিমান! মালয়েশিয়া বাতিল করলো বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়ার চুক্তি


