আ.লীগের ১২ প্রার্থীর নাম প্রস্তাব, সমঝোতা হয়নি

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর পৌরসভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশিদের নিয়ে প্রার্থী বাছাই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি আকমল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য ১৩ জন প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। তাঁরা হলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া, সাবেক পৌর কাউন্সিলর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান, জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র প্রয়াত আব্দুল মনাফের বড় ছেলে আবুল হোসেন সেলিম, যুক্তরাজ্য প্রবাসি আওয়ামী লীগ নেতা আকমল খান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি আব্দুস শহীদ ইব্রাহিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সুত্রধর বীরেন্দ্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী আব্দুল জব্বার, পৌর কাউন্সিলর আবাব মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসি সামছুল ইসলাম রাজন, জেলা পরিষদের সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা মাহতাবুল হাসান সমুজ, যুক্তরাজ্য প্রবাসি আওয়ামী লীগ নেতা এম ইকবাল এম হোসাইন, আব্দুল তাহিদ ও শাহ নুরুল করিম। এরমধ্যে শাহ নুরল করিম পরে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে দেন। সভায় ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন উপস্থিত থেকে তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা দেন। অপর দুই প্রার্থীর পক্ষে তাদের সমর্থকরা নাম প্রস্তাব করেন।
একাধিক প্রার্থী থাকায় সভা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমঝোতার জন্য আধাঘন্টা সময় দেয়া হয়। এরমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সমঝোতার বৈঠকে বসেন। কিন্তুু এতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি হননি। বিষয়টি বাছাই সভায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা জানালে এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানানো হয়। জেলা কমিটির নিকট ৫ থেকে ৭ জনের নাম পাঠানো হতে পারে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান আমি। গত পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নির্বাচন করেনি। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছি। আশা করছি, এবার দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী জগন্নাথপুর পৌরসভার সদ্য প্রয়াত মেয়র আব্দুল মনাফের ছেলে আবুল হোসেন সেলিম জানান, নৌকা প্রতিকে নিয়ে আমার বাবা মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় ৪ বছর দায়িত্ব পালন করে মৃত্যুবরণ করলে তাঁরই পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। পিতার এই পদে ভোটাদের চাপে আমি আওয়ামী লীগের মনোয়ন প্রত্যাশি। নৌকা পেলে নির্বাচন করব।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান বলেন, গত পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। বঞ্চিত হলেও দলের প্রার্থীর সঙ্গে মাঠে কাজ করেছি। দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটাদের দাবিতে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু মিয়া জানান, ১২ থেকে ১৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি। প্রার্থী সংখ্যা বেশি থাকায় কোন সমঝোতা হয়নি। আমরা জেলা কমিটির নিকট নাম পাঠাব। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মনাফের মৃত্যুতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুয়ায়ী আগামী ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি মনোয়ন দাখিলের শেষ দিন।