স্টাফ রিপোর্টার
ধর্মপাশার সুনই জলমহাল দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে মাস খানেক ধরেই। একারণে পুলিশ সুপার কার্যালয় সুনামগঞ্জের বিশেষ শাখা থেকে গেল ২৯ ডিসেম্বর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসক)কে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার জন্য চিঠিও পাঠানো হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ পরদিনই ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠান। কথা ওঠেছে ধর্মপাশার ইউএনও আদেশ প্রতিপালন করেন নি। ইউএনও’র দাবি, তিনি উচ্চ আদালতের আদেশ প্রতিপালন করেছেন।
জানা যায়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ গত ৩০ ডিসেম্বর ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসানকে পাঠনো অফিস আদেশে উল্লেখ করেন, পুলিশ সুপার জেলা বিশেষ শাখা, সুনামগঞ্জের ২৯ ডিসেম্বরের চিঠি অনুযায়ী ধর্মপাশার মনাই নদী প্রকাশিত সুনই নদী জলমহালটি মহামান্য উচ্চ আদালতের আদেশে স্থিতাবস্তা রাখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তব্যরত পুলিশ ফোর্সকে তাৎক্ষণিক সঠিক নির্দেশনা প্রদানসহ ম্যজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য মো.মুনতাসির হাসান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ধর্মপাশা সুনামগঞ্জকে নিয়োগ করা হলো।
কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই জলমহালে বিরোধকৃত দুই পক্ষের একপক্ষ মাছ ধরছিল। আরেকপক্ষ খলাঘর নির্মাণ করে মাছ ধরার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রশ্ন ওঠেছে তাহলে ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কী দায়িত্ব পালন করলেন!
শুক্রবার রাতে জলমহাল দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং হতাহতের ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেছেন, ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ প্রতিপালন করেন নি। এই বিষয়টি তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন পুলিশ সুপার।
ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনতাসির হাসান এমন অভিযোগের জবাবে শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেছেন, সম্ভবত. পুলিশ সুপার সাহেবের উচ্চ আদালতের আদেশের বিষয়টি জানা নেই। ইউএনও বললেন, এই মহালটি ২০ একরের উপরের জলমহাল। এর নিয়ন্ত্রণের দায়-দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। আমাকে জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশ যেভাবে দেওয়া হয়েছে, আমি সেভাবে কাজ করেছি। আমাকে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে, আমি সেভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। বৃহস্পতিবার সকালেও ওখান থেকে দা, রামদা, কিরিচসহ দেশীয় নানা ধরণের অস্ত্র আমি উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। কোন পক্ষের পক্ষে উচ্চ আদালত আদেশ দেন নি। এজন্য কাউকে উচ্ছেদ করার ক্ষমতা আমার ছিল না। উচ্চ আদালত স্থিতাবস্তার আদেশ দিয়েছেন, আমি সেভাবেই আদেশ প্রতিপালন করেছি।


