ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হউক

আর মাত্র এক দিন পর ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন। আরও কয়েক ধাপে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সহিংসতার আশঙ্কা ততই বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের যেন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ইউপি নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে পারে। দেশের মানুষের প্রত্যাশাও তা-ই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইউপি নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ হবে, সে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ইউপি নির্বাচন নিয়ে নানা খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমাদের দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা বরাবরই পরিলক্ষিত হয়। তৃণমূলের মানুষের সম্পৃক্ততা থাকায় এ নির্বাচন ঘিরে গ্রামবাংলা মুখর হয়ে ওঠে। অনেক মজার মজার ঘটনা ঘটে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে পিতা-পুত্রের লড়াই, স্বামী-স্ত্রীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখরোচক সংবাদ পত্রিকায় আসে এবং পাঠক এসব নির্বাচনী রঙ্গ বেশ উপভোগ করে। এবারও এসবের ব্যতিক্রম নেই। এবার ইউপি নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলীয় প্রতীকে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত প্রায় সব রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাড়া অন্যান্য পদের নির্বাচনে অবশ্য দলের প্রতীক লাগবে না। দলীয় সমর্থন নিয়ে যে যার মতো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। দলীয় প্রতীক থাকায় এবারের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি লক্ষ করা যায়। এসব নিয়ে লেখার বা বলার কিছু নেই। এগুলোও নির্বাচনের সৌন্দর্য। নির্বাচন মানে ভোটের লড়াই, প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে পরিবেশ কিছুটা সহিংস হয়ে উঠতেই পারে। কিন্তু আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরিবেশ দিন দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, এ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে সরকার সমর্থক প্রার্থীদের। আক্রান্ত হচ্ছে সরকার সমর্থক বিদ্রোহী ও বিএনপি প্রার্থীরা। এ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে সহিংসতা বন্ধে ইসি তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। তবে পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ বলছে, প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ার কারণে এবার সহিংসতা অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি ঘটছে। আগে সহিংসতা ঘটত বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীরা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ত। তবে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। স্থানীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দলের সমর্থন।
ইসি নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশিত। এখানে আরও একটি বিষয় এসে যায়। যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে, সেহেতু সংশ্লিষ্ট দলগুলোর দায়িত্ব ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য অবদান রাখা। নিজেদের স্বার্থেই এই নির্বাচনটিকে সুষ্ঠুতার বিচারে গ্রহণযোগ্য করতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সেই নির্বাচনের ফলাফল অনেক সময়ই সংশ্লিদের বিব্রত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।