ইউপি কমপ্লেক্স নির্মাণের স্থান নির্ধারণ জটিলতা দূর করুন

সদর উপজেলার নয় ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচ ইউনিয়নেই নিজস্ব ইউপি কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। স্বভাবতই ওইসব ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিগণের মাধ্যমে জনসাধারণকে প্রদত্ত সেবা কার্যক্রম এর ফলে ব্যহত হয়। যে পাঁচ ইউনিয়নে ইউপি কমপ্লেক্স নেই সেই ইউনিয়নগুলো হলো সুরমা, মোল্লাপাড়া, গৌরারং, কাঠইর ও মোহনপুর। বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের সরকারি উদ্যোগ থাকলেও ইউনিয়নের কোথায় নির্মিত হবে এই ভবন এই মতভিন্নতার কারনে কাজটি আটকে আছে। স্থানীয় সরকারের একেবারে তৃণমূলের এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি উন্নয়ন কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সরকারের বহু উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে। ইউনিয়ন পরিষদকে আরও কার্যকর, সক্ষম হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সরকার নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তৃণমূলের সংযোগস্থল হিসাবে এইসব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে উঠুক। তাই ইউপি কমপ্লেক্স ভবনে সরকারের প্রত্যেকটি সেবাদানকারী দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য জায়গার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জনগণ ইউপি ভবনে এসেই যাতে নিজের কৃষি, পশুসম্পদ, পল্লী উন্নয়ন, মৎস্য এমন সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ পেতে পারেন সেজন্যই এই ব্যবস্থা। এতে জনগণের সেবাপ্রাপ্তির বিষয়টি একইসাথে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবাদানের পদ্ধতি অনেক বেশি সহজ ও সুলভ হবে। জনগণের ভোগান্তি কমবে। কিন্তু যেসব ইউনিয়নে আদতে কোন ভবনই নেই সেখানে কী উপায়ে এই কেন্দ্রবিন্দুতে এসে সকল সেবাদানকারী মিলিত হবেন?
একটি ইউনিয়নে ভবন নির্মাণের জন্য মতভিন্নতা থাকতেই পারে। সকলেই নিজেদের সুবিধাজনক স্থানে ভবনটি দেখতে চাইবেন। কিন্তু সকলের ইচ্ছা পূরণ করা কিছুতেই সম্ভব নয়। সুতরাং জায়গাসংক্রান্ত এই বিরোধ গণতান্ত্রিক পন্থা ও অধিকাংশ মানুষের সুবিধা বিবেচনা কর্ইে মিটিয়ে ফেলা উচিৎ। যেসব জায়গায় পুরাতন ইউপি অফিস রয়েছে সেসব স্থানে আপাতত সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সুরমা বা মোল্লাপাড়ার মতো ইউনিয়নে যেখানে কোন পুরাতন ভবন নেই সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জায়গাসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া আবশ্যক। আমরা আশা করি নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যাণ ও সদস্যগণ শপথ গ্রহণের পর এই বিষয়টি অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিবেচনা করবেন। জায়গা চিহ্নিতকরণের সময় সাধারণত এলাকার মধ্যস্থল, গুরুত্বপূর্ণ বাজার এমনসব বিষয়কেই বিবেচনায় নেয়া হয়। এখন যদি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয় তাহলে সেটি হবে নিতান্তই দুঃখজনক। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদও ভাল ভূমিকা রাখতে পারেন। শেষ অর্থে ইউনিয়নগুলোর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান তো উপজেলা পরিষদই।
যেসব ইউনিয়নে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স রয়েছে সেসব স্থানে সরকারি সেবা প্রদান ও গ্রহণের বর্তমান হাল-হকিকত কী সে বিষয়টিও ভালভাবে বিচার বিবেচনা করা উচিৎ। খোঁজ নিলে দেখা যাবে কোথাও সেই অর্থে ভবনগুলোকে সরকারের সংযোগস্থল হিসাবে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতা ইউনিয়ন পরিষদের নয়। এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে ইউপি ভবনে স্থান নির্ধারিত আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের তৃণমূল কর্মীরা যাতে নিয়মিত ওখানে বসেন সংশ্লিষ্টদের সেই ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা ভবনগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হবে। আমরা চাই প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ এক একটি আদর্শ প্রশাসনিক ইউনিট হিসাবে গড়ে উঠুক। চেয়ারম্যানগণ সেখানে নেতৃত্ব দিবেন। যদি এই জায়গায় সফলতা আসে তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ ও আরও ক্ষমতায়নের চিন্তা নীতিনির্ধারকদের মধ্যে জাগ্রত হবে। সেই সম্ভাবনার দিকেই সকলের এগিয়ে যাওয়া উচিৎ। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকলেই একটি কর্মব্যস্ত ও মানুষে ভরপুর প্রতিষ্ঠান হিসাবে একে দেখতে চাই।