ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি চরমে

লিপসন আহমেদ
অদ্বৈত জন্মধাম পণতীর্থে গঙ্গাস্নান ও শাহ আরেফিন (রা:) বার্ষিক ওরস মোবারকের জন্য আগত পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করছে চালকরা। এজন্য দুই সাধকের মিলন মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখো মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আব্দুল জহুর সেতু থেকে পণতীর্থ ও শাহ আরেফিনের মেলা পর্যন্ত প্রশাসন ভাড়া নির্ধারণ করলেও নির্দেশনা মানছে না সিএনজি, লেগুনা ও মোটরসাইকেল চালকরা।
মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ আব্দুল জহুর সেতুতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করায় বিপাকে পড়ছেন দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন। এদিকে প্রশাসনের নজরদারি কম বলে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন অনেকে। এছাড়াও সেতুর সামনেই থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও মোটরসাইকেল, লেগুনা, সিএনজিগুলোকে এলোপাথাড়িভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সেতুর উপর।
দূর দুরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ জানান, শ্রীশ্রী অদ্বৈত জন্মধাম পণতীর্থে গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে আমাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। যে স্থানে যেতে জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়া সেই স্থানে চালকরা জন প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া হাঁকছেন। শুধু তাই নয় তাদের কথা অনুযায়ী ভাড়া না দিলে হয়রানি করছেন।
জানা যায়, মোটরসাইকেল দিয়ে শ্রীশ্রী অদ্বৈত জন্মধাম পণতীর্থে গঙ্গাস্নান ও শাহ আরেফিন (রা:) মোকামে যেতে জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে। লেগুনা ও সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ১৫০ টাকা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে। এক কথায় দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরা জিম্মি হয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে।
সিলেট থেকে আসা সাথী রানী পাল বলেন, সেই সকালে অদ্বৈত জন্মধাম পণতীর্থে গঙ্গাস্নানে যাওয়ার জন্য সুনামগঞ্জের আব্দুল জহুর সেতুতে এসেছি। কিন্তু চালকরা ২০০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে ৪০০ টাকা ভাড়া দাবি করছে। তিনি বলেন, সাথে বেশি টাকা নিয়ে আসিনি সেজন্য বাড়িতে ফোন দিয়ে বলছি বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।
সিলেট থেকে আসা বিনা পাল বলেন, অনেক কাজ মিনতি করে জনপ্রতি ২৫০ টাকা দিয়ে লেগুনা দিয়ে অদ্বৈত জন্মধাম পণতীর্থে গঙ্গাস্নান যাচ্ছি। প্রশাসন যদি এখানে কড়া নজরদারি করতো তাহলে হয়তো আমাদের এতোটা হয়রানির শিকার ও বাড়তি টাকা ভাড়া গুণতে হতো না।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে আসা সুবির দেব বলেন, চালকদের কথা অনুযায়ী বাড়তি ভাড়া দেইনি বলে চালকরা আমাকে খুব হয়রানি করছে। বিষয়টি সেতুতে দায়িত্বে থাকা পুলিশকে জানালে তিনি বলেন, ভাড়া বেশি নিলে আমি কি করব ?
ঢাকা থেকে আসা প্রবাল দাস বলেন, ছেলে মেয়ে নিয়ে গাড়িতে উঠেছি— কিন্তু গাড়ির চালক আমাদের গাড়িতে উঠিয়ে আবার নামিয়ে দিয়ে বলছে তাকে দ্বিগুণ ভাড়া না দিলে যাবে না। এটা কোন দেশে বাস করছি আমরা।
কাঁদতে কাঁদতে হিমেল রায় বলেন, বৃদ্ধ বয়সে এসেছি শ্রীশ্রী অদ্বৈত জন্মধাম পণতীর্থে গঙ্গাস্নানে যেতে কিন্তু এখানে এসে আমাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এটা সত্যি খুব দুঃখজনক।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানা থেকে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। পুলিশকে বলে দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে সকল ধরনের সহযোগিতা করার জন্য।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।