এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে পবিত্র ইদুল আযহার আমেজ নেই। হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে অন্য বছরের মতো কোরবানী দিতে না পারার জন্য বাড়ছে আক্ষেপ আর উৎকন্ঠা। হাওরা এলাকার মানুষের মনে সাধ থাকলেও এখন আর সাধ্য নেই। ইদুল আযহা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মানুষের মনে কোরবানীর গরু কিনতে না পারার আক্ষেপ বাড়ছে।
তাহিরপুরে একদিকে এবছর অকাল বন্যায় হাওরের বোর ফসল ডুবে গেছে, অন্যদিকে উপজেলার বড়ছড়া – চারাগাও – বাগলী শুল্কষ্টেশন দিয়ে আইনি জটিলতায় কয়লা আমদানী বন্ধ রয়েছে। ফলে হাওর ও সীমান্তবর্তী মানুষের দৈনন্দিন চলা এখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে ঈদ উদযাপন করবে হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে এখন সেই চিন্তার শেষ নেই।
ঈদুল আযহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসলেও কোরবানীর গরু আর ঈদের বাজার করতে দেখা যাচ্ছে না হাওর এলাকার মানুষদের। ঈদের কোরবানির গরু আর কেনাকাটা আজ করবো না কাল করবো এই ভেবে সময় পার করছেন তারা।
উপজেলার বাদাঘাট ও বালিয়াঘাট নতুন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, হাওর এলাকার নি¤œআয়ের মানুষের ছেলে – মেয়েরা পরিবারের প্রধানদের কাছে বায়না ধরছে ঈদের জামা কিনে দেয়ার জন্য। আবার অনেকেই বাজার করতে গিয়ে বেশি দামের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকায় বাজার না করেই ফিরছেন খালি হাতে।
উপজেলার বাদাঘাট বাজার, তাহিরপুর সদর বাজার, বালিয়াঘাট নতুন বাজার, বড়ছড়া জয় বাংলা বাজার, শ্রীপুর বাজারসহ বেশ কয়টি বাজারে গিয়ে কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিত্যপণের জিনিস থেকে শুরু করে জামা, কাপড়, জুতা, স্যান্ডেল, কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম ক্রেতা-কৃষকদের নাগালের বাইরে। হাওর পাড়ের অনেকেই বলেছেন, এবছর সময় মত বোরো ধান গোলায় তুলতে না পারায় তাদের পরিবারের জন্য ঈদুল আযহার বাজার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাহিরপুর সদর বাজারের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, এখনও ঈদ বাজার জমে উঠেনি, মানুষের হাতে এবছর টাকা না থাকায় ঈদ বাজার জমে উঠবে কিনা সন্দেহ আছে।
উপজেলার বাদাঘাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়,গরুর বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ছোট বড় গরু আছে কিন্তুগরু কেনার জন্য তেমন ক্রেতা নেই। যা কয়েকজন আছেন গরুর দাম বেশী হওয়ায় তারা গরু কিনতে পারছেন না।
শ্রীপুর বাজার, বড়ছড়া জয়বাংলা বাজার ও কলাগাও বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক দোকানের জিনিসের সাথে অন্য দোকানের কোন জিনিসের দামের মিল নাই। ব্যবসায়ীরা হরেক রকমের জিনিস নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসে আছেন কিন্তু তেমন ক্রেতা নেই।
কলাগাঁও বাজারে ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাজার করতে আসা কৃষক তোতা মিয়া, আইনাল হক, আনিস মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বাড়িতে ছোট ছেলে-মেয়েরা বায়না ধরেছে ঈদের জামা-কাপড় কেনার জন্য। তাদের নিয়ে বাজারে এসে দোকানে গিয়ে দেখি সব কিছুরেই দাম বেশী। এবছর হাওর ডুবে যাওয়ায় কোন রকম তাদের জন্য জামা কাপড় কিনেছি।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড সদস্য জানান, এবছর হাওরে ফসলহানি আর বন্যা হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে না পারায় এবং বড়ছড়া, চারাগাঁও বাগলী শুল্কস্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানী বন্ধ থাকায় কোরবানির গরু কিনা থেকে শুরু করে পরিবারের জন্য বাজার থেকে কোন কিছু কিনে দিতে হিমসিম খাচ্ছে হাওর এলাকার মানুষ। তিনি বলেন, অন্য বছর ঈদুল আযহার সময়ে বাজারগুলোতে কোরবানির গরু কিনার ধুম পরলেও এবছর তেমন হবে না।


