ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের শঙ্কায় দিন পার বাংলাদেশের

সু.খবর ডেস্ক
ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের শঙ্কা রেখে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন পার করলো বাংলাদেশ। শনিবার ফলো অনে পড়ে ব্যাট করতে নেমে কোনও উইকেট না হারিয়ে সাত রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের চেয়ে এখনও ৪১৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা। দিন শেষে ইমরুল কায়েস ৬ রান করে ও সৌম্য সরকার ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
ব্লোয়েমফন্টেইনে গতকাল শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও সাউথ আফ্রিকার মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচ। শুক্রবার টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ফলে, ব্যাট করতে নামে সাউথ আফ্রিকা। প্রোটিয়ারা আজ চার উইকেট হারিয়ে ৫৭৩ রান সংগ্রহ করে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করে।
এরপর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নামে। কিন্তু ফলো অন এড়াতে পারেনি টাইগাররা। মুশফিকুর রহিমরা অলআউট হয়ে যায় ১৪৭ রানে। অর্থাৎ, প্রথম ইনিংস শেষে সাউথ আফ্রিকার চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকে ৪২৬ রানে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন লিটন দাস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন ইমরুল কায়েস। সাউথ আফ্রিকার পক্ষে কাগিসো রাবাদা ৫টি, দুয়ান্নে অলিভিয়ার ৩টি, ওয়েনি পারনেল ১টি ও কেশভ মহারাজ ১টি করে উইকেট নেন।
বাংলাদেশ আজ প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায়। কাগিসো রাবাদার বলে বোল্ড হন সৌম্য সরকার। তিনি করেন ৯ রান। এরপর দলীয় ২৬ রানে দুয়ান্নে অলিভিয়ারের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন মুমিনুল হক। তিনি করেন ৪ রান।
দলীয় ৩৬ রানে গালিতে টেম্বা বাভুমার অবিশ্বাস্য ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। তিনি করেন ৭ রান। এরপর দলীয় ৪৯ রানে ওয়েনি পারনেলের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৪ রান।
বাংলাদেশের দলীয় রান যখন ৬১ তখন কাগিসো রাবাদার বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হন ইমরুল কায়েস। তিনি করেন ২৬ রান। এরপর ব্যক্তিগত শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন সাব্বির রহমান। দলীয় ৬৫ রানে কাগিসো রাবাদার বলে মিডঅফে ওয়েনি পারনেলের হাতে ক্যাচ হন তিনি।
ষষ্ঠ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর লিটন দাসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তাইজুল ইসলাম। দুইজনে মিলে ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। দলীয় ১১৫ রানে দুয়ান্নে অলিভিয়ারের বলে বোল্ড হন তাইজুল ইসলাম। তিনি করেন ১২ রান।
দলীয় ১৪৩ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। কাগিসো রাবাদার বলে ফাফ ডু প্লেসিসের হাতে ক্যাচ হন তিনি। তিনি করেন ৭০ রান। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার সর্বোচ্চ রান। এর আগে টেস্টে তার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৫০।
লিটন দাস ফিরে যাওয়ার পরপরই সাজঘরে ফেরেন মোস্তাফিজুর রহমান। কেশভ মহারাজের বলে এইডেন মার্করামের হাতে ধরা পড়েন তিনি। দলীয় ১৪৭ রানে কাগিসো রাবাদার বলে বোল্ড হন রুবেল হোসেন।
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ শেষে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ তিনটি অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে আগামী ১৫, ১৮ ও ২২ অক্টোবর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ পিছিয়ে ৪১৯ রানে
সাউথ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ৫৭৩/৪ডি (১২০ ওভার)
(ডেন এলগার ১১৩, এইডেন মার্করাম ১৪৩, হাশিম আমলা ১৩২, টেম্বা বাভুমা ৭, ফাফ ডু প্লেসিস ১৩৫*, কুইন্টন ডি কক ২৮*; মোস্তাফিজুর রহমান ০/১১৩, শুভাশিস রায় ৩/১১৮, রুবেল হোসেন ১/১১৩, সৌম্য সরকার ০/২১, তাইজুল ইসলাম ০/১৪৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/৩৫, মুমিনুল হক ০/৬, সাব্বির রহমান ০/১৬)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৪৭ (৪২.৫ ওভার)
(ইমরুল কায়েস ২৬, সৌম্য সরকার ৯, মুমিনুল হক ৪, মুশফিকুর রহিম ৭, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪, লিটন দাস ৭০, সাব্বির রহমান ০, তাইজুল ইসলাম ১২, রুবেল হোসেন ১০, মোস্তাফিজুর রহমান ০, শুভাশিস রায় ২*; কাগিসো রাবাদা ৫/৩৩, দুয়ান্নে অলিভিয়ার ৩/৪০, ওয়েনি পারনেল ১/৩৬, কেশভ মহারাজ ১/৭, আন্দিল ফেহলাকওয়াইও ০/২৮)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৭/০ (১.২ ওভার) (ফলো অন)
(ইমরুল কায়েস ৬*, সৌম্য সরকার ১*; কাগিসো রাবাদা ০/৬, দুয়ান্নে অলিভিয়ার ০/১)।