লন্ডন থেকে মতিয়ার চৌধুরী
একাত্তরে‘র বুদ্ধিজীবি হত্যার অন্যতম নায়ক সাবেক আলবদর কমান্ডার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মইনুদ্দিনকে নিয়ে বৃটেনের বহুল প্রচারিতি দৈনিক দি সান ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ সংখ্যা একটি চমৎকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয় ইন্টারপোলের রেড এলার্ট তালিকায় থেকেও লন্ডনে বিলাসী জীবন যাপন করছেন মানবতাবিরুধী অপরাধী মইনুদ্দিন। তাকে কেন খুঁজে পায়নি পুলিশ? বর্তমানে উত্তর লন্ডনের মিলিয়ন পাউন্ড দামের একটি বাড়িতে আরাম আয়েশে বসবাস করছেন। ইন্টারপোলের রেড এলার্ট তালিকায় থেকেও কিভাবে লন্ডনে বিলাসী জীবন যাপন করছেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত চৌধুরী মঈনুদ্দিন?
দ্যা সানের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস NHS এর সাবেক পরিচালক চৌধুরী মঈনউদ্দীনকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে আলবদর বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া এবং তার নেতৃত্বে দেশের শ্রেষ্ট বুদ্ধিজীবিদের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় বাংলাদেশের আদালতে। এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বাংলাদেশে ২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত হন। যিনি বর্তমানে উত্তর লন্ডনের ১ মিলিয়ন পাউন্ড দামের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
চৌধুরী মঈনুদ্দিন (৬৯) কে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালে তার অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যখন পাকিস্তান বিভক্ত হয়েছিলো, তখন তার নির্দেশ ও নেতৃত্ব একটি ভয়াবহ আলবদর বাহিনী দিয়ে ১৯৭১ সালে ১৮ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করিয়েছিলেন বাংলাদেশে।মঈনুদ্দিনকে রাজধানী ঢাকার একটি যোদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার রায় দেওয়া হয়।
তবে মঈনুদ্দিন উক্ত রায় কে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করেন। তার আইনজীবীও এটি একটি “শো ট্রায়াল” ব্র্যান্ডিং করে এবং তিনি তাকে সেখানে উপস্থিত করতেও অস্বীকৃতি জানান।
সম্প্রতিকালে ইন্টারপোল ২৫ জন ভয়ংকর অপরাধী মুসলিম নেতার ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে যাদের উপর রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং এদের সবাই পলাতক! কিন্তু দ্য সান সহজেই উত্তর লন্ডনের সাউথ গেইটে তার ১ মিলিয়ন পাউন্ড দামের বাড়ির সন্ধান পেয়ে যায়। সানের সাংবাদিকেরা মঈনুদ্দিনকে ক্যামেরা বন্দি করতেও সক্ষম হোন। একজন প্রতিবেক জানান, ইন্টারপোলের রেড এলার্ট থাকার পরেও মুঈন উদ্দিন দিব্যি এলাকায় ঘুরে বেড়ান শপিং করেন, মসজিদে যান, মোটামুটি দৈনন্দিন জীবনের সব কাজকর্মই করেন! হয়ত ইন্টারপোল খুব ভালো ভাবে খুঁজছে না তাই তারা পাচ্ছে না!
সম্প্রতিকালে মঈনুদ্দিন তার বাড়িতেই তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিককে দেয়া বক্তব্যে বলেন: “এই সব রাবিশ”।তিনি ইন্টারপোলের রেড নোটিশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথেই মঈনুদ্দিন বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে পালিয়ে আসেন এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি এবং স্ত্রী ফরিদা (৫৭) চার সন্তানের জনক। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মইনুদ্দিনকে বৃটেন থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে তার ফাঁসির রায় কায্রকর করতে কয়েকটি সংগঠন দাবী জানিয়ে আসছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারও তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও চৌধুরী মইনুদদ্দিনের উপর ইন্টারপোলের রেড এলার্ট রয়েছে তার পরেও সে লন্ডনের তার প্রতিষ্টিত সংগঠন ইসলামিক ফোরাম অব ইউরোপ (আাইএফই), এবং চ্যারিটি সংগঠন মুসলিম এইডের মাধ্যমে তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশে মুসলিম এইডেকে নিষিদ্ধ করতে দাবী তুলেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। এখানেই শেষ নয় সে বৃটেনে একজন মুসলিম নেতা হিসেবে প্রতিষ্টা পেয়েছে।
- কাঁকন বিবির বীরপ্রতীক খেতাব নিয়ে দ্রুত ভ্রান্তি নিরসন করুন
- সুনামগঞ্জের অত্যাবশ্যকীয় নদী খনন (১ম ধাপ)

