স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলহানির ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ‘তালাশ’ টিম। গত এক সপ্তাহ ধরে ‘তালাশ’ টিমের পক্ষ থেকে হাওরের ফসলডুবির ঘটনার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। ঐ টিমের স্টাফ রিপোর্টার সবুজ মাহমুদ ও ক্যামেরাপার্সন বাবু কিবরিয়া সুনামগঞ্জ শহর ও হাওরে ঘুরে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। তারা সুনামগঞ্জ শহরে এসে প্রথমে জেলা পরিষদ রেস্ট হাউসে ওঠেন এবং সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করেন। বর্তমানে তারা শহরের ষোলঘর এলাকার হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউসে থেকে কাজ করছেন।
কাজের অংশ হিসাবে তারা রোববার বিকাল ৪টার দিকে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর কার্যালয়ে আসেন এবং হাওরে ফসলডুবি নিয়ে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক পঙ্কজ কান্তি দে’র সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় হাওরে ফসলডুবির কারণ, কারা দায়ী, ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চান।
স্টাফ রিপোর্টার সবুজ মাহমুদ হাওরে ফসলডুবির পর গড়ে ওঠা আন্দোলনে অন্যান্যদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পরে হাওরের ফসলডুবি এবং বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিষয়ে সম্পাদকের বক্তব্য রেকর্ড করতে চান।
পঙ্কজ দে জানান, তালাশের স্টাফ রিপোর্টার সবুজ মাহমুদ তার বক্তব্য নেবার এক পর্যায়ে হাওরে ফসলডুবির জন্য কে দায়ী জানতে চান।
তিনি (পঙ্কজ দে) জানান, এ ঘটনার জন্য এককভাবে কেউ দায়ী নয়, মূল দায়িত্ব ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের, তারা সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ত বাঁধের কাজের অনেক ঠিকাদার এবং পিআইসি সঠিকভাবে কাজ করেনি। এই তিন পক্ষের কেউ-ই দায় এড়াতে পারে না।
সবুজ মাহমুদ এরপর পঙ্কজ দের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অন রেকর্ডে আলোচনা করেন। তিনি জানতে চান, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামগঞ্জ জেলার নয়। এখন হাওরে ফসলডুবির পর তার পত্রিকায়ই বেশি বেশি রিপোর্ট হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কারো কারো প্রশ্ন আছে বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে পঙ্কজ দে বলেন, তার পত্রিকায় ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট বর্ষপূর্তি সংখ্যায় অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঐ প্রতিষ্ঠানেরও বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে। একই সংখ্যায় শহরের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শহরের আরো দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনও ছাপা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে। তার মানে এই নয় যে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ছাপা হলে, ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে কোন অনিয়ম, দুর্নীতি করলে কিংবা সমাজের বা রাষ্ট্রের কোন ক্ষতি করলে এ বিষয়ে সংবাদ ছাপানো যাবে না।
এরপর তিনি পঙ্কজ দে’র কাছে জানতে চান শহরে তার তিনটি বাড়ি আছে, এগুলো কীভাবে হলো ?
এ প্রসঙ্গে পঙ্কজ দে তাকে বলেন, তিনি প্রায় ২২ বছর ধরে শহরে পুস্তক ব্যবসা করছেন। একই সঙ্গে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের জেলা পরিবেশক হিসাবে আছেন। তিনি এটিএন বাংলা ও সমকালের জেলা প্রতিনিধি’র দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী সরকারী চাকুরীজীবী। দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় ছাড়াও প্রতিমাসে স্বামী-স্ত্রী দুজনের বেতন বাবদ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পান। এই বেতন ও ব্যবসার আয়ের বিবরণ সরকারের আয়কর বিভাগে দাখিল করা আছে। শহরে তার তিনটি বাড়ি নয়। স্বামী- স্ত্রী’র নামে শহরের শহীদ আবুল হোসেন রোডে (মরাটিলা রোড) কেনা পৌনে চার শতক জমির মধ্যে আড়াই শতকে ছোট ছোট তিনটি কক্ষের একতলা ঘরের কাজ এখনো শেষ-ই করতে পারেননি।
পঙ্কজ দে বলেন,‘এই সামান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অথচ আমার সঙ্গে যারা ব্যবসা শুরু করেছিলেন, তাদের আলিশান বাড়ি, মার্সিটিজ গাড়ি, এমনকি কারো কারো দেশের বাইরে কানাডায়ও বাড়ি আছে বলে শুনেছি। এরাই আমার বিরুদ্ধে এসব কথা বলে। ২০ বছর আগে আমি বে´িমকো গ্রুপের প্রকাশিত পত্রিকা ‘দৈনিক মুক্তকণ্ঠ’ দিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ শুরু করেছিলাম। পরে একুশে টিভি, ভোরের কাগজে কাজ করেছি। আমার অবস্থান সব সময় ন্যায়ের পক্ষে, সাধারণ মানুষের পক্ষে ছিল, এখনো আছে। এবার হাওরে ফসলডুবির পর আমি আমার নৈতিক অবস্থান থেকে হাওরের লাখো ফসলহারা কৃষকের পক্ষে আছি, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নতুন নয়। আমি সব সময় লুটেরাদের এসব অভিযোগ শুনার জন্য প্রস্তুত থাকি।’
পরে সাংবাদিক সবুজ মাহমুদ ও বাবু কিবরিয়াকে হাওরের ফসল ডুবির ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ করায় হাওরবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান পঙ্কজ দে।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে বিগত ফসল মৌসুমে বাঁধের কাজ না হওয়ায় সরকারী হিসাবেই প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়। এ কারণে প্রায় সোয়া তিন লাখ কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েন।


