‘ইবার সোনার বৈশাখ’

বিশেষ প্রতিনিধি
ইবার (এই বছর) হাওরে সোনার বৈশাখী, খালি ধান নায়, খের (খর) তুলরাম আরামে (নির্বিঘ্নে), আর ১০ দিন সময় পাইলে একটা ধানও হাওরে থাকতো নায়, গত কয়েক বছরের মাঝে ইলাখান বৈশাখী তোলা গেছে না। জেলার করচার হাওরপাড়ের বিশ্বম্ভরপুরের কৃষক স্বপন বর্মণ এভাবেই নিজের আনন্দের কথা জানাচ্ছিলেন। স্বপন বর্মণ জানালেন, ৩৩ কেয়ার (১১ একর) জমির সবটুকুই আশা করছেন কেটে আনতে পারবেন এবার।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরপাড়ের আলমপুরের কৃষক শামস উদ্দিন বললেন, আমার বয়স ৪২ অইছে, ইবছরের লাখান (এবারের মতো) বৈশাখী একবারও মাইনসে ওঠাইতে দেখছি না, এমন দেওয়া দিছইন আল্লায়, বিলের (জলমহালের) তল (নীচে) থাকিও ইবার ধান আনবো মাইনসে।
দেখার হাওর এবং করচার হাওর কেবল নয় জেলার সকল হাওরেই কৃষকের আছে এমন আনন্দের অনুভূতি।
দিরাই উপজেলার বরাম হাওরপাড়ের রাজাপুরের বড় কৃষক আব্দুস ছাত্তার বললেন, হাওরের ৭৫ ভাগ ধান কাটা শেষ, কেয়ারে (তিন কেয়ারে এক একর) গড়ে কমপক্ষে ১৮ মণ ধান অইছে, অন্য বছর ১০ মণ কেয়ারে অইছে, ১২ মণও অইছে, আবার ২০ মণও অইছে, ইবার আমি কোন ক্ষেতে (জমিতে) ১০-১২ মণের ফলন দেখছি না, আমাদের গ্রামের পাশের বরাম ও উদগল হাওরে সোনার বাংলা ও হীরা ধানের চাষাবাদ অইছে বেশি, আর ১০ দিন সময় পাইলে সব ধান কাটা শেষ অইবো (শেষ হয়ে যাবে)।
অবশ্য শাল্লার ছায়ার হাওরপাড়ের কান্দিগাঁওয়ের বড় কৃষক আব্দুস সাত্তার বললেন, সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় এবং লাগাতার খড়ায় ধানের ওজন এবার কম হয়েছে, পোকায়ও ক্ষতি করেছে এই উপজেলার হাওরের ধানের। তিনি জানালেন, ধান কাটা শেষের দিকে আর ১০-১২ দিন সময় পেলেই দুশ্চিন্তা কেটে যাবে।


কৃষকদের দুশ্চিন্তা দূর করার আভাস দিলেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাঈদ আহমদও। তিনি জানালেন, ৩০ এপ্রিল ভোর রাত পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে উল্লেখ করার মতো বৃষ্টি নেই। ২৭ এপ্রিল রাতে হালকা বৃষ্টি হবে দোয়ারা, ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলায়। রবিবার থেকে তাপমাত্রাও বাড়বে জেলার সকল এলাকায়। ধান শুকানোর অনুকূলে থাকবে আবহাওয়া। তিনি জানালেন, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত উজানের (ভারতের) মেঘালয় কিংবা বরাক উপত্যকায়ও থেমন কোন বৃষ্টিপাতের আভাস নেই। তবে আবহাওয়ার এই পূর্বাবাস পরিবর্তিতও হতে পারে। এজন্য ধান ক্ষেতে বা জমিতে ধান রেখে অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দ্রুত ধান কেটে ঘরে নিয়ে আসতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান বললেন, এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন বেশি হবে। সুনামগঞ্জে এবার তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। শনিবার পর্যন্ত ৬৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। আর ১০ দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকরা ধান ঘরে নিয়ে আসবেন।