ইভিএমএ ভোট হবে শুনে খুশি ভোটাররা

আলী আহমদ. জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলাল মিয়া গত পৌর নির্বাচনে (গত বছরের ১০ অক্টোবর মেয়র পদে উপ নির্বাচনে) ভোট দিতে এসে দেখেন তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, তিনি হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এবার ইভিএম এ ভোট হবে শুনে তিনি খুশি। তিনি বলেন, ‘হুনছি (শুনেছি) ভোট চুরি রোধে ইবার (এবার) মেশিনে (ইবিএমএ) ভোট দেওয়া হবে। ভোটারদের আঙ্গুলের ছাপ লাগবে, একজনের ছাপ আরেকজন দিতে পারবে না তাই আমার ভোট আমি দেব’।
শুধু দুলাল মিয়া নন ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের কোন ধারণা না থাকলেও ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। পৌর এলাকার বাসুদেব বাড়ির বাসিন্দা সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তন্না চৌধুরী জীবনের প্রথমবারের মতো ভোট দিবে। তন্না জানায়, জীবনে প্রথম ভোট ইভিএম পদ্ধতিতে দেব তাই অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। ইতিমধ্যে ইউটিউব থেকে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি শিখেছি।
জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা উপজেলা নাগরিক ফোরাম যুগ্ম আহ্বায়ক রুমানুল হক জানান, ইভিএম পদ্ধতি বিষয়ে ভোটারদের কোন ধারণা নেই। এ বিষয়ে সচেতনতামুলক প্রচারণা ও ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার তিনটি পৌরসভাসহ সারাদেশে ৬৬টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলায় একমাত্র জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে।
এবার জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন ও মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের আয়োজন করায় অনেক প্রার্থী নিজেদের পক্ষে প্রচারণার পাশাপাশি ভোট প্রদানের পদ্ধতি বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জগন্নাথপুর পৌর নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাংবাদিক গোবিন্দ দে জানান, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা ভীতি রয়েছে। তবে নবীন ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। আমি পাঞ্জাবি প্রতীকের সমর্থনে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ইভিএম এ ভোটদান প্রক্রিয়া বিষয়ে প্রচারণা করছি।
৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা জানতে চান ইভিএম মেশিনে কীভাবে ভোট হবে। ভোটারদেরকে মুঠোফোনে মাধ্যমে ভোট প্রদানের পদ্ধতি শিখাতে হয়।
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া জানান, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটারদের কোন ধারণা নেই। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে সচেতনতামুলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হারুনুজ্জামান জানান, ইভিএম এ ভোট প্রদানের পদ্ধতি বিষয়ে ভোটারদের কোন জ্ঞান না থাকায় নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ রয়েছে। অনুন্নত পৌর এলাকায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের আয়োজন ঠিক হয়নি।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র আক্তার হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি ইভিএম পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। একজনের ভোট অন্যজন প্রদানের সুযোগ পাবে না। তবে ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের আগে আমরা প্রদর্শনী ভোটের আয়োজন করব। ফলে ভোটাররা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের ধারণা পাবে।