বিশেষ প্রতিনিধি
ঈদকে সামনে রেখে শহরে চুরি ও মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়েছে। প্রায় প্রতি রাতেই শহরের কোনো না কোনো এলাকায় ঘটছে চুরির ঘটনা। সোমবার রাতে হাসননগর এলাকার এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, সোমবার রাতে ষোলঘর ওয়াপদা রোডের সোহেন মিয়া ও হাসননগর এলাকার সজীব মজুমদারের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার রাত তিনটার দিকে শহরের হাসননগর এলাকার উপত্যকা আবাসিক এলাকায় সৌদিআবর প্রবাসী সিদ্দিক মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা হয়। ডাকাতেরা বাসার মূল গেটের গ্রিল ভাঙার সময় ঘরের লোকজন জেগে ওঠে চিৎকার শুরু করেন। গেট খুলতে না পেরে ইট দিয়ে ঘরের কয়েকটি জানালার কাচ ভাংচুর করা হয়। বাড়ির মালিকের আত্মীয় নওশাদ মসরু বলেন,‘পুলিশ এসে দেখে গেছে। বাড়ির ভাড়াটেরা চরম আতঙ্কে আছেন। বিশেষ করে শিশুরা ভয়ে আছে।’
এর আগে শনিবার রাতে শহরের হাসননগরের পূরবী আবাসিক এলাকায় একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার রাতে একই এলাকায় ময়নারপয়েন্ট এলাকায় মদ খেয়ে
‘মধুরাপুর হাউজে’ ঢুকে ওই ঘরের লোকজনকে মারধর করে কয়েক যুবক। বাসার মালিক মোফজ্জল হোসেন (৪২) গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়াডের্র মধ্যবাজার, স্টেশন রোড এলাকায় চুরির ঘটনা রোধে স্থানীয় লোকজন সম্প্রতি পাহারাদার রেখেছেন। রায়পাড়া ও সোমপাড়ায় পাহারাদার রাখার জন্য এলাকাবাসী বৈঠক করেছেন। স্থানীয় কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লোহ বলেছেন,‘১৫ দিন আগে আমার এলাকার মুক্তারপাড়া রোডে এক রাতে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এখন আমি নিজেই রাতে পাহারা দিই।’
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ ইয়াছিনুর রশিদ বলেন,‘আমার এলাকায় চুরি বেড়েছে। মাদকসেবীরাই এসব করে। এসব বন্ধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো উচিত।’
৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আহমদ নূর বলেন,‘আমার এলাকায় চুরির সঙ্গে মাদকসেবীদের উৎপাত বেশি। পুলিশ কঠোর না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
সদর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী শহরে চুরি বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন,‘আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেছেন,‘মাস খানেক আগে এসব বন্ধে আমরা বিশেষ অভিযান চালিয়েছিলাম। এখন ঈদকে সামনে রেখে আবার যদি এসব বেড়ে থাকে তাহলে পুলিশি তৎপরতা অবশ্যই বাড়ানো হবে।’


