আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে টানা নয় দিনের সরকারি ছুটি। প্রধানমন্ত্রী নিজ নির্বাহী ক্ষমতাবলে ৪ জুলাই খোলার দিনটিকে বন্ধ ঘোষণা করায় সরকারি কর্মচারিরা টানা দীর্ঘদিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ পেয়েছেন। সরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি ৯ দিন বন্ধ থাকার কারণে জনগণের কিছুটা সমস্যা হবে বটে কিন্তু এই সুযোগে সরকারি কর্মচারীরা পরিবার-পরিজনের সাথে এবার ঈদ আনন্দ অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় ভাল কাটাতে পারবেন। আজ রাত থেকেই শুরু হবে ঘরে ফেরার মিছিল। এই মিছিল অব্যাহত থাকবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত, এমনকি ঈদের পরদিনও। এইসময়ে দেশের সকল সড়কে যানবাহনের আধিক্য দেখা দিবে। পরিবহণ নিয়ে যাত্রী ভোগান্তির চিরাচরিত দৃশ্যও হয়তোবা দেখা যাবে। তারপরেও শত ভোগান্তি সহ্য ক্ের যখন মানুষ প্রিয় সান্নিধ্য খুঁজে পাবেন তখন নিমিষে পথক্লান্তি দূর হয়ে অনাবিল আনন্দে ভাসবেন। এইসব ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপদ ভ্রমণ এবং পুনরায় নিরাপদে কর্মস্থলে প্রত্যাবর্তন কামনা করি আমরা।
সরকারি চাকুরিজীবীরা নতুন বেতনস্কেলে ঈদ-বোনাস পেয়েছেন। সংগত কারণেই এবার তাদের ঈদ মার্কেটিংয়ের পরিধির কিছুটা বিস্তৃতি ঘটবে। সাধারণ কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের ঈদ আনন্দ বলতে প্রিয়জনের সাথে ক্ষণিকের মিলনকেই বুঝায়। কৃষকের ঈদ আনন্দ এবার অন্তত এই জেলায় ফ্যাকাশে আকার ধারণ করবে। কারণ এবার জেলার প্রধান ফসল বোরো ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-কবলিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা কৃষি বিভাগ যতই হিসাবের কারসাজি করুক না কেন। এইসব সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দ কিছুটা বাড়ানোর সামাজিক প্রয়াস দৃশ্যমান হলে আমরা আনন্দিত হতাম। সম্পদ বৈষম্যের পাহাড়চূড়ায় বসে ধনবান বিশেষের নিজের মনের আনন্দ লাভ ও সামাজিক সুনাম কুড়ানোর অভিপ্রায়ে কিছুটা দান-খয়রাতের দেখা মিলে আমাদের সমাজে। এইসব ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন দানশীলতার কারণে অন্তত কিছু বিত্তহীনের ঈদ আনন্দ সামান্য হলেও রঙিন হতে পারে। আমরা এমন বদান্যতার সম্প্রসারণ কামনা করি। সরকারিভাবেও ঈদ-বোনাস বঞ্চিত সাধারণ মানুষের জন্য কিছু উদারতা দেখানোর প্রত্যাশা করি আমরা।
ঈদের মর্মবাণীই হলো ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে সকলে মিলে আনন্দ উপভোগ করা। এক মাস সংযম সাধনার পর ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিমাত্রই নিজের চারপাশে বিপন্ন মানবাত্মার ক্রন্দনে ব্যথিত হবেন। যিনি এরকমটি হবেন না তিনি নিশ্চিতভাবেই ধর্মের মর্মবাণী অনুধাবনে ব্যর্থ। ইসলাম গরিব আত্মীয় এবং অনাত্মীয় প্রতিবেশীর জন্য সম্পন্নবানদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। আমরা সকলের মধ্যে এমন দায়িত্ববোধের জাগরণ কামনা করি। প্রতিবেশীর কষ্ট লাঘবে যদি সম্পন্নবানরা এগিয়ে আসেন তাহলে কারও মন ঈদের দিনে নিরানন্দ থাকতে পারে না। অন্যদিকে সম্পন্নবান ব্যক্তিটিও বঞ্চিত হবেন পরিপূর্ণ আত্মতৃপ্তি লাভ থেকে। কারণ অন্যের বেদনার মধ্যে নিজের আনন্দটাও তখন ফিকে হয়ে যেতে বাধ্য।
দেশ ও বিশ্ব আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নানা সংকটের জটিল ঘুনাবর্তে বিধ্বস্ত আজ বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ। বিভাজন, আত্মকেন্দ্রীকতা, প্রবঞ্চনা, একদেশদর্শিতা, কূপম-ুকতা, হিং¯্রতা আজ এই কঠিন সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। মানুষের ভিতর থেকে এমন দুষ্ট-স্বভাবগুলোর দ্রুত অবসান ভিন্ন মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ উল্টোপথে ভূতের পেছন চলার মতো অবস্থায় পতিত হবে। ঈদের সাম্যতার আদর্শের কথা স্মরণ করে আমরা বিশ্ববাসীর অটুট ভ্রাতৃত্ববোধ ও সকল মানুষের সহনশীলতা ও উদারতার উদ্ভাসন কামনা করি।
শহর থেকে যারা গ্রামে যাচ্ছেন তাঁরা যদি নিজ নিজ অঞ্চলে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ, সাম্য ও একতার এই আহ্বান সকলের মাঝে পৌঁছে দেন তাহলে আমাদের বিশ্বাস চিন্তার বন্ধ্যাত্ব কাটতে থাকবে।

