বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরসহ প্রবাসি অধ্যুসিত এলাকায় এবার বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিট্যান্স) বেশি এসেছে। বিশেষ করে জগন্নাথপুরের প্রবাসিরা এবার যাকাত বেশি দিচ্ছেন। ১৫ রমজানের পর থেকেই প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় রেমিট্যান্স আসা শুরু হয়। ব্যাংকের ছুটির সর্বশেষ দিন (শনিবার) পর্যন্ত রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছেন দেশে থাকা স্বজনরা।
জগন্নাথপুরের বোরাখালি প্রবাসী আবুল কয়েছ’এর ভাই বোনসহ পরিবারের ১২ সদস্য যুক্তরাজ্যে আছেন। গেল রমজানের ঈদে পারিবারিক খরচের বাইরে ফিতরার জন্য দেশে সাত লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন তারা। এবারের ঈদে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রবাসী স্বজনরা দেশে পাঠিয়েছেন। আবুল কয়েছ জানান, এই টাকা গ্রামের অপেক্ষাকৃত অস্বচ্চলদের মধ্যে বণ্টন করবেন তারা।
একই উপজেলার ইকরছই গ্রামের মুহিবুর রহমানের পাঁচ ভাই বোনসহ ৩০ জনের মতো স্বজন আছেন যুক্তরাজ্যে। তিনি জানালেন, গেল ঈদের চেয়ে তাদের স্বজনরা এবার প্রবাস থেকে বেশি টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন,‘লন্ডনে যারা আছইন তারা মনে কররা মছিবত থাকি (করোনা থাকি) হকলে রক্ষা পাইছইন, গেলবার (গত বছর) কাম কাজ আছিল না, টেকা পাঠানির লাগিও ঘর থাকি বারইতা পারছইনা না, ইবার পরিবেশ ভালা।’
আবুল কয়েছ কিংবা মুহিবুর রহমান নয় জগন্নাথপুরের প্রবাসী অধ্যুষিতদের অনেকেই এবার দেশে থাকা স্বজনদের জন্য বেশি টাকা পাঠিয়েছেন।
জগন্নাথপুরের প্রবাসি অধ্যুসিত সৈয়দপুর বাজারের ব্যাংকগুলোতে এবার রেমিট্যান্স বেশি আসার কথা জানালেন সেখানকার ব্যাংক কর্মকর্তারা।
প্রাইম ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. জায়েদ পারভেজ বললেন, আমি এই ব্রাঞ্চে নতুন এসেছি, ব্যাংকের রেকর্ড অনুযায়ী গেল বছরের রমজানের ঈদের চেয়ে এবার ঈদেও আগে রেমিট্যান্স বেশি এসেছে।
প্রাইম ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক বিশ^জিত চন্দ্র পালও রেমিট্যান্স গেল ঈদের চেয়ে বেশি এসেছে জানিয়ে বললেন, ক্যাশ’এর গ্রাহক এর চেয়ে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে এবার টাকা বেশি এসেছে।
ট্রাস্ট ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার প্রিন্সিপাল নূর আলমও জানালেন, হিসাব অনুযায়ী রেমিট্যান্স গেল রমজানের ঈদের চেয়ে এবার ঈদের আগে বেশি এসেছে।


