ঈদ উপলক্ষে ১৫৯৩.৩১ মে. টন চাল বরাদ্দ

স্টাফ রিপোর্টার
পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে জেলার ১১ উপজেলা ও চার পৌরসভার মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩১ টি ভিজিএফ কার্ডের সদস্যের বিপরীতে ১৫৯৩.৩১ মে. টন চাল বরাদ্দ করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা। জেলার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩১ টি দরিদ্র পরিবারকে কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রত্যেক পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ
দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এবারের ঈদে ভিজিএফের বরাদ্দের পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। বন্যাক্রান্ত,দুর্যোগাক্রান্ত, দুঃস্থ, অতিদরিদ্রকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এসব চাল বিতরণ করা হবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৩০১ টি কার্ড, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ৫৫০ টি, জগন্নাথপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৬৩ টি, ছাতকের ১৩ টি ইউনিয়নের ২৮ হাজার ৭০টি, দিরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার  ৪৫৬ টি, শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ১০৪টি, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১০ হাজার ৫১৫ টি, জামালগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৭ হাজার ৯৬৬ টি, তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১০ হাজার ১১১ টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৭ হাজার ৪৪৭টি ও ধর্মপাশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১০ হাজার ৩৪৪টি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।
এদিকে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের বিপরীতে ৪৬.২১০ মে.টন চাল, ছাতক পৌরসভার ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের বিপরীতে ৪৬.২১০ মে.টন, জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩ হাজার ৮১টি কার্ডের জন্য ৩০.৮১০ মে.টন, পৌরসভার ৩ হাজার ৮১টি কার্ডের জন্য ৩০.৮১০ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এসব বরাদ্দের চিঠি সকল উপজেলার নির্বাহী অফিসার, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুঃস্থ, অতিদরিদ্র ব্যক্তি বা পরিবারকে ভিজিএফ প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যে পরিবারের মালিকানায় ভিটাবাড়ি ছাড়া কোন জমি নেই, দিন মজুরের আয়ের উপর নির্ভরশীল, মহিলা শ্রমিকের আয় বা ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভরশীল, উপার্জনক্ষম পূর্ণ বয়স্ক কোন পুুরুষ সদস্য নেই, স্কুলগামী শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয়, স্বামী পরিত্যক্ত, বিচ্ছিন্ন বা তালাকপ্রাপ্তা, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধি, যে পরিবারের সদস্যরা দু’বেলা খাবার পায় না তাদের ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে জানান, ভিজিএফের চাল বিতরণের চিঠি সংশ্লিষ্ট সকলকে বেশ আগেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ভিজিএফের চাল জেলা ও উপজেলা খাদ্য গোদাম থেকে বিতরণ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌছানোর পরিবহন ও আনুসাঙ্গিক খরচ সরকারি খাত থেকে বহন করা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে পরিবহন ও আনুসাঙ্গিক ব্যয় মঞ্জুরি প্রাপ্তি সাপেক্ষে বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামীকালের মধ্যে খাদ্য গোদাম থেকে চাল উত্তোলন করতে হবে। অন্যথায় তামাদি বলে গণ্য হবে।’