স্টাফ রিপোর্টার
আবহমান বাংলার নারী সর্বদাই তার সৌন্দর্য খুঁজে পেয়েছে শাড়িতে। শাড়ির সৌন্দর্যের কাছে যেন হার মানে অন্যসব পোশাক। আর এ জন্যই তো বাঙালি নারীদের কাছে শাড়ি খুবই শখের একটি পোশাক। আর এটি যদি হয় চলমান বিভিন্ন উৎসব বা অনুষ্ঠানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাহলে তো কথাই নেই। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এখন যেমন নতুন রঙ, নকশা-শৈলী ও পছন্দের শাড়ি কিনতে শাড়ি প্রেমী নারীরা ছুটছেন বিভিন্ন মার্কেটে। সবারই ইচ্ছে তাদের শাড়িটি হবে সুন্দর ও দামি।
এবারের ঈদ উৎসবে দেশী শাড়ি চেয়ে ইন্ডিয়ান জর্জেট. বেনারসি, কাতান, জুট কাতান, হাফসিল্ক, কুচিশাড়ি ও ইন্ডিয়ান প্রিন্ট শাড়ির চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন মার্কেটের বিক্রেতারা। রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে সবুজ, নীল, মেজেন্টা, রূপালী, সাদা, কারো আবার পেস্ট বেগুনি রঙের শাড়ি। এছাড়াও রয়েছে হরেক রকমের বাহারি ডিজাইনের হালকা, আরামদায়ক এবং সব বয়সের জন্য মানানসই দেশী-বিদেশী শাড়ি। ইন্ডিয়ান শাড়ির নামের ক্ষেত্রে বেশি চাহিদা রয়েছে বাজিরাও মস্তানি, দেবদাস, পারবতি, রাশি, টাপুর টুপুর, কারিনা কাপুর, ক্যারিনা, কাজল-সহ ইন্ডিয়ান জর্জেট ও কাতান শাড়ি। তবে রং, সুতা, শাড়ির ডিজাইনের উপরে পার্থক্য রয়েছে দামের।
লন্ডন প্লাজার রিয়া বস্ত্রালয় ও গার্মেন্টেসর স্বত্বাধিকারী রামু রায় বলেন, ইন্ডিয়ান জর্জেট শাড়ির মুল্য সর্বনিম্ন ২০০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০০০ টাকা, ইন্ডিয়ান কাতান সর্বনিম্ন ১০০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা, ইন্ডিয়ান বেনারসি সর্বনিম্ন ২০০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা, ইন্ডিয়ান প্রিন্ট সর্বনিম্ন ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।
তিনি বলেন, বাজারে দেশী শাড়ির তুলনায় ইন্ডিয়ান জর্জেট, কাতান, বেনারশি শাড়ির চাহিদা অনেকটা বেশি। দাম একটু বেশি হলেও বিক্রি ভালই হচ্ছে।
ইন্ডিয়ান শাড়ির পাশাপাশি পিছিয়ে নেই দেশী জামদানি, কাতান, সিল্ক, হাফ সিল্ক, তাঁতের শাড়ি, অ্যামব্রয়ডারি, ব্লক, হ্যান্ড পেইন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট সহ সুতি শাড়ি। দেশীয় শাড়ির জমিনের উপর বিভিন্ন রুচিসম্মত রঙ ও সুতার হাতের কাজ করা শাড়ি রয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়। এছাড়াও রয়েছে টাঙ্গাইল-পাবনার সুতি শাড়ি, টাঙ্গাইল-মিরপুরী বেনারসি শাড়ি। বাহারী নামকরনও করা হয়েছে এসব শাড়ির। যেমন-আঁচল, রূপালী বাংলা, মাছরাঙ্গা, এ প্লাস, বি প্লাস সহ আরো কত কি! ইন্ডিয়ান শাড়ির তুলনায় দাম অনেকটাই কম। জামদানি, কাতান, বেনারসির মুল্য সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা। সুতি প্রিন্টের মুল্য সর্বনিম্ন ৭০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫০০টাকা পর্যন্ত। এমনটিই বললেন, পশ্চিম বাজারের গনি হর্কাস মার্কেটের সাথী গার্মেন্টের প্রোপাইটর মো.আলমগীর হোসেন।
একই চিত্র দেয়া যায়, শহরের লন্ডন প্লাজা, নেজা প্লাজা, দোজা শপিং সেন্টার, সুরমা মার্কেট, মৌলাবক্স সেন্টার, গনি মার্কেটের বিভিন্ন বিপনী বিতান ঘুরে।
ঈদ মার্কেট করতে আসা আলেয়া বেগম জানান, এবার ঈদ বাজারে ইন্ডিয়ান জর্জেটের চাহিদা বেশি, অনেকেরই পছন্দ এটি। কিন্তু দাম অনেকটা বেশি। এই দামে সবার পক্ষে শাড়ি কেনা হয়তো সম্ভব হবে না।
দেশি সুতি শাড়ির সম্পর্কে জ্যোৎ¯œা বেগম জানান, আমি সুতি শাড়ি কিনতেছি। অন্য শাড়ির চেয়ে সুতি শাড়িতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।
এছাড়াও দেশীয় শাড়ির চাহিদা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশি শাড়ির চাহিদা এখনও আছে। তবে এটাও ঠিক এখন ইন্ডিয়ান শাড়ি একটু বেশি চলে।
নারীদের ঐতিহ্যবাহী ও নিত্যনৈমিত্তিক পরিধেয় বস্ত্র শাড়ি। বাংলার এই শাড়ির ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব বাঙালি রমণীদের। শাড়ির সঙ্গে রয়েছে যেন বাঙালিয়ানার টান। ঈদ-পূজা-পার্বণ সহ বিভিন্ন আনন্দ আয়োজনে নিজেকে অপরূপ করে তুলতে বাঙালি নারীদের বাহারি বৈচিত্র্যের শাড়ির ছোঁয়াই তার প্রমাণ।


