উদীচীর বৈঠকী সন্ধ্যা- সুরের ইন্দ্রজালে বন্দী শ্রোতারা

সজীব দে
উদীচীর বৈঠকী সংগীত সন্ধ্যা যেন পুরনো দিনে ফিরে যাওয়া। প্রায় দুই ঘণ্টার আয়োজন ‘মনের জানালা ধরে উকি দিয়ে যায়’। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম ও জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় কে মঞ্চে ডাকেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
মঞ্চে এসে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম ও জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় জেলা উদীচীর আয়োজনে সকলকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার জন্য অনুরোধ জানান। এরপর কাজী নজরুল ইসলামের ‘এ কী অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী.. সমবেত কন্ঠে শোনান উদীচীর শিল্পীরা।
একে একে ‘মঙ্গল প্রদীপ জেলে অন্ধকারে দু’চোখ আলোয় ভরো প্রভু.., মনের রঙ্ েরাঙাবো ফুলের ঘুম ভাঙাবো,.. আমি অবুঝের মতো একি করছি.., আবার এলো যে সন্ধ্যা.., শুধু দু’জনে.., রঙিলা বাঁশিতে কে ডাকে…, মধু মালতি ডাকে আয়.., সখী ভাবনা কাহারে বলে.., আমি তো বন্ধু মাতাল নই.., দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল…, মন শুধু মন ছুঁয়েছে.., মনের জানালা ধরে উঁকি দিয়ে গেছে.., না যেও না রজনী এখনও বাকি…, মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায়..।
এমন হারানো দিনের বিখ্যাত গানগুলো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিনলায়তন ভর্তি দর্শকরা শুনছিলেন পিনপতন নিরবতায়। বৈঠকী সংগীত সন্ধ্যার মাঝে মাঝে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ খ্যাতিমান কবির কবিতা আবৃত্তি করেন উদীচীর আবৃত্তি শিল্পীরা।
উদীচীর সংগঠক, শিল্পী ডা. সালেহ আহমদ আলমগীরের সঞ্চালনায় শুক্লা রায় চৈতালী, অঞ্জন চৌধুরী, প্রসেনজিৎ দে, জহির আহমদ, অপূর্ব বৈষ্ণব ডাল্টন, অয়ন চৌধুরী, অন্তরা খাসনবিশ, সংযুক্তা তালুকদার, অর্পনা তরফদার মৌ, চন্দনা পাল, পারমিতা রায় পূর্বা সহ উদীচীর সংগীত বিভাগের শিল্পীরা বৈঠকী সন্ধ্যায় সুরের ঈন্দ্রজাল রচনা করেন। আসর ভাঙার পূর্ব পর্যন্ত এই মায়াময় আবেশে বন্দি ছিলেন শ্রোতারা।