অমিত দেব ও আলী আহমদ
লাউড় রাজ্যের অধিপতি রাজা বিজয় মান্যিকের স্মৃতি বিজড়িত জগন্নাথপুর উপজেলা একটি অগ্রসরমান উপজেলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আট বছরের শাসনামলে জগন্নাথপুর উপজেলার গ্রামীণ অবকাটামো উন্নয়ন,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,যোগাযোগ,বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
চলমান রয়েছে আরো অনেক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প। স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অভিমত। এই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকলে জগন্নাথপুর একটি অগ্রসর উপজেলায় পরিণত হবে।
উপজেলাবাসীর মতে দেশ স্বাধীনের পর ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত এত বিশাল উন্নয়ন কার্যক্রম অতীতের সব উন্নয়ন রেকর্ডকে অতিক্রম করে জগন্নাথপুর উপজেলাকে একটি অগ্রসর উপজেলায় পরিণত করেছে।
প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের স্বপ্নের পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান থাকা রানীগঞ্জ সেতুর কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেতুটির কাজ বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে গড়ে উঠতে পারে ছোটখাটো শিল্পকারখানা। সম্ভাবনাময় উপজেলা হিসেবে জগন্নাথপুরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ সুগম হতে পারে।
উপজেলার সচেতন জনগোষ্ঠীর মতে আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত ও এ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশের মধ্যে জগন্নাথপুর একটি অগ্রসর উপজেলায় পরিণত হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার ৪৮ কিলোমিটর পল্লী সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও আরো ২৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৮১ মিটার দৈঘ্যর্ ও ২০টি ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছ। চলমান রয়েছে আরো অসংখ্য ব্রীজ-কালভার্টের কাজ।
প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রগতিতে এলজিইডির তত্বাবধানে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে ৫৩টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়। আরো ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত ভবনের কাজ চলমান রয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে জগন্নাথপুর ডিগ্রী কলেজ দ্বিতল ভবন এক কোটি ২৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় পরে তৃতীয় ও চতুর্থতলা সম্প্রসারিত ভবনে আরো এক কোটি ২০ লাখ বরাদ্দ হয় যা চলমান রয়েছে। অনুরূপভাবে শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে এক কোটি ২৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় দ্বিতল ভবন। পরে তৃতীয় ও চতুর্থতলা সম্প্রসারিত ভবনে আরো এক কোটি ২০ লাখ টাকার কাজ চলমান। সৈয়দপুর আর্দশ কলেজে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চতুর্থতলা ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামসিয়া মাদ্রাসায় ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন, পাড়ারগাঁও আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭ লাখ টাকা করে দুটি নতুন ভবন, শ্রীরামসি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথমে ৪৫ লাখ টাকা ও পরবর্তীতে আরো ৭০ লাখ টাকা অনুমোদন হয়েছে। আব্দুল কাদির মেহেরুনেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে, এরালিয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথমে ৫১ লাখ ৫০ হাজার ও পরবর্তীতে ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তৃতীয় ও চতুর্থতলা সম্প্রসারিত ভবন এবং আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণ, অরুণোদয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথমে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজ চলমান রয়েছে। আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ লাখ,সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১ লাখ পরবর্তীতে আরো ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। লামাটুকের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১ লাখ ১৯ হাজার ও পাড়ারগাঁও আইডিয়ালে ৫১ লাখ ৫০ হাজার ও রৌয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। চিলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬১ লাখ ২০ হাজার এবং পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণ কর হয়। এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা পরিষদের নতুন সুরম্য ভবন, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ, রানীগঞ্জ, রৌয়াইল ও কেশবপুর গ্রাম প্রতিরক্ষা দেওয়াল নির্মাণ করা হয়। দুই কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫তল বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ চলছে জোরেশোরে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে শতকোটি টাকার কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে এক শ’ ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রানীগঞ্জ সেতু নির্মাণের কাজ চলছে জোরেশোরে। সেতুটির কাজ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সাথে সুনামগঞ্জবাসীর দূরত্ব কমবে ৯০ কিলোমিটার। এছাড়াও পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাগলা-জগন্নাথপুর অংশের ঝুঁকিপূর্ণ ষ্টীলব্রীজ ভেঙ্গে নতুন সেতু নির্মাণের একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকে অনুমোদন লাভ করেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ সমস্যা দূর করা হয়েছে। উপজেলা সদরে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পিডিপি ও পাটলী ইউনিয়নে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে পল্লী বিদ্যুতের দুটি সাবষ্টেশন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পুরো উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে অসংখ্য গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রদান করা হয়েছে। কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে গত আট বছরে কমপক্ষে ৫০টি। তিন কোটি টাকা ব্যয়ে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে একটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন,‘ জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়ন হচ্ছে হাওরবেষ্টিত আমার ইউনিয়ন। গত আট বছরে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনেকটা বঞ্চনা দূর হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপথের উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের বিশেষ নজরদারির কারণে জগন্নাথপুরের গ্রাম অঞ্চলে উন্নয়ন হয়েছে প্রচুর।’
পাটলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বলেন,‘আওয়ামীলীগ সরকার গ্রাম বাংলার উন্নয়নে কাজ করে তাই গত আট বছরে জগন্নাথপুরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। জগন্নাথপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে শহরের পরিবেশ বিরাজ করছে।’
কলকলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজালাল মহাবিদ্যালয় গর্ভনিং বডির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নয়নে অতীতের সকল রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে গত আট বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রম। এজন্য তিনি প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জগন্নাথপুরে গত আট বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সার্বিক উন্নয়নের সফলতা মানুষ পেতে শুরু করছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন,‘ জগন্নাথপুরবাসী সৌভাগ্যবান। প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুতে শূন্য আসনে এম এ মান্ননের মতো সৎ,যোগ্য, বিচক্ষণ ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া। তাঁর নেতৃত্বে জগন্নাথপুর এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা কেউ রোধ করতে পারবে না। ’
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি নেতা আতাউর রহমান বলেন,‘জগন্নাথপুরের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সৎ সজ্জন রাজনীতিবিদ এম এ মান্নান কাজ করে যাচ্ছেন যা প্রশংসনীয়। আগামী নির্বাচনে দলমতের উর্ধ্বে উঠে তাগে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে পেতে উন্নয়নের স্বার্থে আবারও নির্বাচিত করা দরকার বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।


