শহীদনূর আহমদ
শত বছরের পুরনো কেন্দ্রীয় গোরস্থানটি উন্নয়ন বিমুখ। দৃশ্যমান অবকাঠামো অনেকটাই দুর্বল। র্দীঘদিন গোরস্থানে মাটি না পরায় দিনদিন ভূমি নিচু হয়ে যাচ্ছে। চতুর্দিকে সীমানা দেয়াল না থাকায় গরু-ছাগল ও কুকর বিড়াল অবাধেই বিচরণ করে গোরস্থানে। গোরস্থানে নেই লাইটিংয়ের ব্যবস্থা। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাত্রি বেলায় দাফন কার্য নিয়ে বিপাকেই পড়তে হয় মৃত ব্যক্তির স্বজনদের। শহরের কেন্দ্রেীয় গোরস্থান হওয়া সত্বেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে দাবী শহরের বিশিষ্টজনের ।
তবে অচিরেই গোরস্থানের একটি নান্দনিকরূপ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুল। জানা যায়, মধ্য শহরের দক্ষিণ দিকে পৌরসভার মালিকানাধীন ২ একর জায়গা নিয়ে গোরস্থানটি অবস্থিত। ১৯৮৬ সালে পৌরসভার নতুন পাড়ার সমাজসেবক তজম্মুল আলী কাঁচা মিয়ার উদ্যোগে ও শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারের (পাবলিক লাইব্রেরীর) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনসুর আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মসজিদের সম্পাদক নুরুর রব চৌধুরীসহ শহরের বিশিষ্টজনদের সহযোগিতায় মুসলমানদের দাফনের জন্যে দাফন উপযোগী এই করবরস্থানটি সংস্কার করা হয়। তৎকালীন সময় জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে ৩ শতক জায়গা মাটি ভরাট করে ডুম ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে পৃথকভাবে সমাহিত করার স্থান নির্ধারণ করা হয়।
শহরের সবচেয়ে উচু জায়গা (টিলা) হওয়ায় বন্যার সময় এই গোরস্থানটিতেই দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসতেন তাদের মৃত স্বজনদের দাফন করতে। কালের পরিক্রমায় গোরস্থানটিতে হাজার হাজার মানুষকে কবর দেয়া হলেও কবরস্থানটির হয়নি আধুনিকায়ন।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সভাপতি নুরুর রব চৌধুরী বলেন, গোরস্থানটি শত বছরের পুরানো। এই কবরস্থানে শহরের অনেকেই সমাহিত আছেন। সমাজসেবক মরহুম কাঁচা মিয়ার উদ্যোগে ১৯৮৬ সালে কবরস্থানের উন্নয়নে মাটি ভরাট ও যাওয়ার রাস্তা তৈরী করা হয়েছিল। এর পর থেকে চোখে পড়ার মত তেমন কাজ হয়নি গোরস্থানে। তবে মেয়র সাহেব গোরস্থানটিকে নান্দনিক রূপ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি অচিরেই কাজ শুরু হবে।
ফাতেমা জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বজলুর রশিদ জানান, প্রায় শতবর্ষী এই গোরস্থানে নানা সমস্যা রয়েছে। সীমানা প্রাচীর ও মাটি ভরাট করা দরকার। নির্দিষ্ট খাদিম না থাকায় মানুষ এলোমেলোভাবে কবর দিচ্ছে। আমরা পৌরসভা থেকে আশ্বাস পেয়েছি। আশা করি পৌর কর্তৃপক্ষ গোরস্থানটির প্রতি সুনজর দিবেন।
পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখ্ত জগলুল বলেন,‘আমি কেন্দ্রীয় কবরস্থান উন্নয়নে অনেকগুলো উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। দৃষ্টিনন্দন কবরস্থানে রূপ দিতে একজন প্রকৌশলী দ্বারা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বড় প্রকল্প হাতে নেয়ায় একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে পর্যায়ক্রমে করতে হবে। আমি চেষ্টা করছি, পৌরবাসীকে একটি দৃষ্টিনন্দন কবরস্থান উপহার দেয়ার।


