আকরাম উদ্দিন
একজন প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী। দেশমাতৃকার টানে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন তিনি। এখন বয়স হয়েছে। শরীরে নানা রোগব্যধি বাসা বেঁধেছে। কোমরে বেল্ট ব্যবহার করে কোনো মতে চলাফেরা করতে হয় তাঁর। শরীর দুর্বল। মুখে রুচি নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৩২ সালের ৫ জুলাই। বর্তমান বয়স প্রায় ৯০ বছর। এই বয়সে সংসারের হাল ধরে বেঁচে আছেন তিনি। আকবর আলীর বাড়ি সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা গ্রামে। সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাড়ি আকবর আলীর।
দেশ স্বাধীনের পর অভাবী সংসার নিয়ে আকবর আলী কেটে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। এখন তাঁর পরিবারে নাতি-নাতনীসহ ৮জন রয়েছেন। ১ মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ১ ছেলে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে নতুন চাকুরি হিসাবে প্রশিক্ষণে আছে। ১৯৯৬ সাল থেকে ভাতা পেয়ে আসছেন আকবর আলী। বর্তমানে ১২ হাজার টাকা ভাতা পান তিনি। এই ভাতার টাকা দিয়ে কোনো মতে ঘর সংসার চালান এবং শারীরিক চিকিৎসায় খরচ করেন। তাঁর কোনো জমি নেই। শুধু বসতভিটা আছে, টিনের ১টি ঘর আছে। আমার সরকারী অনুদানের ঘর প্রয়োজন। বসত ভিটার জায়গারও প্রয়োজন।
শুক্রবার সকালে আলাপ হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলীর সাথে। তিনি জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন বিভিন্ন স্থানে। যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে প্রথমে বালাটে যান। সেখানে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক হুসেন বখত, আলফাত উদ্দিন মুক্তার সাহেব, দেওয়ান ওবায়দুর রাজা, নানু মিয়া মুক্তার সাহেবের সাথে দেখা হয় আকবর আলীর। তাঁরা পাঠিয়ে দেন ভারতের ইকো ওয়ান প্রশিক্ষণে। প্রশিক্ষণ শেষে ছাতকের চেলায় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে অবস্থান করেন তিনি। সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে অংশ নেন। এই ক্যাম্পে ছিলেন রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিনাপাটী রঙ্গারচর গ্রামের বাসিন্দা আমার সহযোদ্ধা কোম্পানী কমান্ডার আব্দুস শহীদ। সহযোদ্ধা ছিলেন বাঘমারা গ্রামের অদুদ মিয়া, জজ মিয়া, গৌরারং ইউনিয়নের গৌরারং গ্রামের কালা মিয়াসহ আরও অনেকে। যুদ্ধকালীন সময়ে ছাতকের জাউয়া বাজার, নরসিংপুর এলাকায়ও যুদ্ধ করেন আকবর আলী। এসময় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতেন ডা: মোকব্বীর আলী। সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর হেলাল উদ্দিনের অধীনে যুদ্ধ করেন তিনি।
আকবর আলী জানান, দেশ স্বাধীনের পর আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মর্যাদার সাথে ভাতা পাচ্ছি। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
- মানবাধিকার কমিশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি গঠন
- পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


