Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
একাত্তরের মৌল চেতনায় নতুন প্রজন্ম হৃদ্ধ হোক – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

একাত্তরের মৌল চেতনায় নতুন প্রজন্ম হৃদ্ধ হোক

নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের ইতিহাস জানানোর তাগিদ দিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। রবিবার শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি পাঠকক্ষে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এমন আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কা-ারী এই নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করতে হবে। খুব গুরুত্বপূর্ণ তাঁর এই উপদেশ। নির্মূল কমিটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশে একাত্তরের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। আজ দেশে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে সেটি নব্বই’র দশকে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম কর্তৃক এই সংগঠনের প্লাটফরমেই তৈরি করা জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন। কিন্তু কিছু সংখ্যক যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিশ্চিত করা গেলেই যে কেবল একাত্তরের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে না সেই চিন্তা ভাবনা থেকেই সংগঠনটি নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের ইতিহাস ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার তাগিদ দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, মহান স্বাধীনতা অর্জনের ৪৭ বছর পরও কেন আজ আমাদের বার বার একাত্তরের ইতিহাস জানানো ও একাত্তরের চেতনা জাগ্রত করার প্রশ্ন আসছে তা নিয়ে। এটি তো ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখেই মিমাংসিত হয়ে যাওয়ার কথা। বিজয় অর্জনের পর তো জাতি ও রাষ্ট্রের ওই আদর্শের পথেই চলার কথা। কিন্তু সেটি হয়নি বলেই শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে নব্বই দশকে রাজপথে নামতে হয়েছিল আর আজও পথে প্রান্তরে ওই চেতনার কথা বলতে হচ্ছে কাজী মুকুলদের।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, একাত্তরের চেতনা বলতে আসলে কী বুঝায়? চেতনা কোন বস্তুগত বিষয় নয়। এ হলো এক বিশেষ ধরনের মানসিক উপলব্ধি, এক বিশেষ ধরনের মতাদর্শিক অবস্থান। দেশকে ওই মতাদর্শে পরিচালনার নামই একাত্তরের চেতনা। একাত্তরের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চেতনা ছিল একটি শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। ওই চেতনা বাস্তবায়নে দরকার ছিল একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসীদের দ্বারা রাষ্ট্র, প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা। জানা কথা, যথাযথ আদর্শিক ব্যক্তির হাতে প্রতিষ্ঠান না থাকলে প্রতিষ্ঠানটিও সঠিক পথে পরিচালিত হবে না। স্বাধীন এই দেশে এই জিনিসগুলোর ঘাটতি ছিল। পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর তো একাত্তরের চেতনার পরিবর্তে পাকিস্তানি চেতনার বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গিয়েছিল একেবারে। এখন একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল ক্ষমতায়। সংগত কারণেই মানুষের প্রত্যাশাও এই দলের কাছে বেশি। দলটি যেমন স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে তেমনি এই দলই বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-সহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে এসেছে। কিন্তু সামাজিক-অর্থনৈতিক জায়গায় একাত্তরের চেতনা বাস্তবায়নে তাদের আরও অনেক কিছু করার বাকি রয়ে গেছে। এই অপূর্ণ কাজগুলো শেষ করার ঐতিহাসিক দায় এই আওয়ামী লীগের উপরই বেশি।
একাত্তরের মৌল চেতনা বলতে যদি আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনমুক্ত সুষম অর্থনৈতিক কাঠামো বুঝি তাহলে বর্তমান বাংলাদেশকে আরও অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই অগ্রসর হতে হবে। প্রচ-রকম আদর্শিক দৃঢ়তা ও দেশপ্রেম ভিন্ন ওই পথে হাঁটা খুব শক্ত। নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের ওই চেতনার কথা জানাতে হবে। তাঁদেরকে বলতে হবে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে যাতে কেউই একাত্তরের মৌল চেতনার পরিপন্থী কোন কর্মকা-ে লিপ্ত না হন সেজন্য প্রতিরোধ বলয় রচনা করার।