একান্ত কথন

রোকেস লেইস
ইউরেনিয়াম নিয়ে মেঘালয়ের রাণীকোর এলাকায় প্রতিবাদ প্রতিরোধ চলছে বিগত কয়েক বছর থেকে। যদি ইউরেনিয়াম অপেন পিট লিকেজ মূল কারন হতো, সেক্ষেত্রে ঐ সময় থেকেই প্রাণী মৃত্যু শুরু হতো সাথে তৃণ লতাগুল্ম ও আক্রান্ত হতো। কারণ খনি চুয়ানো পানিতো ঐ সময়ও এসেছে, আর সে’টা যদি ইউরেনিয়াম হয় (যা ১১৩২’সেন্টিগ্রেট তাপ মাত্রায় গলে) তবেতো, অবশ্যই ক্ষতি দৃশ্যমান হতো তখন থেকেই। বিষয়টি ডেইলি স্টার নিউজ করলো; যখন আকস্মিক অগ্রিম বন্যায় প্রায় সব ক’টি হাওর নিমজ্জিত, আর মাছ কীট পতঙ্গ মহামারী আক্রান্ত। ইতিমধ্যে প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক টেস্ট যা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে হয়েছে, সেখানে তিনটি হাওরে মাত্রার ভিন্নতা; বিশেষ করে টাঙ্গুয়া হাওরে তুলনা মূলক কম, তবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী মাত্রায় এমোনিয়া’র অস্তিত্ব আছে মর্মে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ল্যাবরেটরি টেস্টের পরই যা চূড়ান্ত জানা যাবে।  বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় অনতিবিলম্বে ফলাফল সাধারণ্যে প্রকাশ করা হোক, যাতে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ অপপ্রচারের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পায়। সংশ্লিষ্ট সকলে দ্রুততা ও গুরুত্বের সাথে ত্বরিত সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম হবেন বলেই বিশ্বাস। ক্ষতি যা হয়েছে তাতো অপূরণীয়, তবে ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার কার্যকর পদক্ষেপ এবং তা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ মতামত নির্ভর সুদূর প্রসারী দিক নির্দেশনা মূলক হোক। ধান, মাছ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা যেমন জরুরী, একইভাবে বালি পাথর ও প্রাকৃতিক নিয়মেই নিম্নভূমিতে আহরিত হবে এবং তা প্রাকৃতিক নিয়মেই নেমে আসবে।
একবারো কী ভাবা হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমিতে অপরিকল্পিত উপায়ে (যা ইউরেনিয়াম থেকে কম নয়) টন টন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞগণ এ,সি রুমে বসে নয়, মাঠে এসে দ্রুততার সাথে বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত দিন। এ দুর্যোগ কোনো বিশেষ এলাকা বা গোষ্টির নয় অবশ্যই জাতীয় সমস্যা। সম্মিলিতভাবে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক দায়িত্ব পালনই দুর্যোগ মুক্তি আর ক্ষতি কাটিয়ে সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে সহায়ক হোক।
                                            ২২০৪১৭