‘একুশে’ পদকে ভূষিত হওয়ায় ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ কে অভিনন্দন

হোসেন তওফিক চৌধুরী
দেশ ও জাতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য প্রতি বছরই মহান একুশের প্রাক্ষালে দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট বরেণ্য ব্যক্তিকে ‘একুশে’ পদক প্রদান করা হয়। ২০২২ সালের একুশের পদক প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ২৪ জনকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। তন্মধ্যে সুনামগঞ্জের কৃতি ও বরেণ্য সাহিত্যিক ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ রয়েছেন। ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ সুনামগঞ্জ তথা দেশের সাহিত্যাঙ্গণে স্বীয় অবদানের জন্য সুপরিচিত, সমাদৃত ও নন্দিত। ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ ১৯৪৫ সালের ২৭ শে জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সুধাংশু শেখর চৌধুরী। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার সুখাইড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ একজন কথাশিল্পী। তাঁর প্রথম ছোট গল্প সংকলন “গোধুলির রং খেলা” ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুটো গল্পগ্রন্থ “অলকাপরী” ও “মখমলে আলপিন”। তাঁর ছোট গল্পগুলো অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহি এবং বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। তাঁর গল্পে আধুনিক নগর জীবনের দ্বন্দ্ব সংঘাত বিধৃত হয়েছে। ফুটে উঠেছে বাংলার সুখ, দুঃখ, ব্যাথা, বেদনার চিত্র। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পঠভূমিতে তাঁর লেখা গল্প সংকলন “নূর হোসেনের পদধ্বনি” ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি তিনটি উপন্যাস লিখেছেন। “বন্দী দিন-বন্দী রাত্রি”, “সারেঙ্গীওয়ালা” এবং “যমুনার হুলিখেলা”। স্বামীর কর্মস্থল তিনি করাচিতে বসবাস করতেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমিতে সেখানকার উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং করাচির মুসা কলোনীতে বসবাসকারী ছিন্নমূল বাঙালি জীবনের সুখ দুঃখ পূর্ণ জীবনের প্রতিচ্ছবি একেছেন “বন্দী দিন-বন্দী রাত্রি” উপন্যাসে। “সারেঙ্গীওয়ালা” বইতে তুলে এনেছেন লাহোরের বিখ্যাত হীরামতির বিয়োগান্তক চিত্র। যমুনা হুলিখেলায় প্রকাশ পেয়েছে ধাঙ্গর জীবনের ছবি। তাঁর রচিত পাঁচখানা কিশোর গল্পসংকলন প্রকাশিত হয়েছে।
ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ নিরন্তর লিখে চলেছেন। শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি শিশু সাহিত্য কেন্দ্রের সম্মাননা পেয়েছেন। রাগসী শিল্পীগোষ্ঠী তাকে সম্মাননা দিয়েছেন। ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থের সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদান ইতিমধ্যে সকল মহলে সমাদৃত হয়েছে। তাঁর অবদানে সুনামগঞ্জের সুনাম অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে ও সুনামগঞ্জকে তিনি আলোকিত করেছেন। আগামীতে তাঁর অবদান সুনামগঞ্জের সুনাম আরো ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে দৃঢ় আশা পোষণ করছি।
আমি এই ছোট নিবন্ধে তাঁর শুভ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আশা করব তিনি তাঁর অবদান অব্যাহত রাখবেন। তিনি একুশে পদকে ভূষিত হওয়ায় সুনামগঞ্জবাসী অপার আনন্দিত। ইতোপূর্বে সুনামগঞ্জের দেওয়ান মোঃ আজরাফ, অধ্যাপক শাহেদ আলী, শাহ আব্দুল করিম প্রমুখ একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। আমি সুনামগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।
লেখক : আইনজীবী-কলামিষ্ট।