স্টাফ রিপোর্টার
ভাষা ও সাহিত্য গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘একুশে পদক’ এ ভূষিত হয়েছেন ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সকালে ‘একুশে পদক—২০২২’ প্রদান করেছেন। তাঁর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পদক হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশের সাহিত্য পরিমণ্ডলে ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ পাঠকনন্দিত নাম, যিনি কিশোর বয়স থেকে লেখালেখি শুরু করেন। শিশু সাহিত্যিক, লেখক ও গীতিকার হিসাবেও তিনি সুপরিচিত। জীবনের নানা বিপর্যয়েও তাঁর কলম থেমে থাকেনি। সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনে রয়েছে তাঁর স্বতন্ত্র, পরিপক্ক ও গভীর সাধনার স্বাক্ষর। ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশু—কিশোর সাহিত্যে এবং বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার হিসেবে তিনি অবদান রেখেছেন। দুঃস্থ—বিপন্ন ও অসহায় মানুষের জীবন সংগ্রাম, অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতাবোধ তাঁর ছোটগল্প উপন্যাসে বাস্তব রূপ লাভ করেছে। শিশু সাহিত্যে—শিশু মনস্তত্ত্ব, শিশু মাসন গঠনে বড়দের কতটুকু দায়িত্ব রয়েছে এ বিষয়টি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায়। লেখিকার অনুভবের জগৎ, চিন্তার গভীরতা, পটভূমির বিচিত্রতা, ভাষার কুশলতা, শুধু অনুপম নয় ধ্রুপদিও। তাঁর অনবদ্য কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ এ পর্যন্ত বহু পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ লালুর মুক্তিযুদ্ধ, নূর হোসেনর পদধ্বনি, মেঘ জ্যোৎস্নায় মুক্তিযুদ্ধ, শ্রেষ্ঠ গল্প, শিশু কিশোর গল্পগ্রন্থ ১ম ও ২য় খণ্ড।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। মন্ত্রি পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রত্যেককে এককালীন নগদ ৪ লাখ টাকাসহ ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিসরূপ দেশের ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিককে এবার একুশে পদক প্রদান করেছে সরকার। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিসরূপ সরকার গত ৩ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক ২০২২’ প্রদানের জন্য ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ঘোষণা করে।
এ বছর ভাষা আন্দোলন বিভাগে দুইজন, মুক্তিযুদ্ধে চারজন, শিল্পকলা (শিল্প, সংগীত ও নৃত্য) বিভাগে সাতজন, সমাজসেবা বিভাগে দুইজন, ভাষা ও সাহিত্যে দুইজন, গবেষণায় চারজন এবং সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিক্ষায় একজন করে পুরস্কার পেয়েছেন।
ভাষা আন্দোলনের ক্ষেত্রে মোস্তফা এম এ মতিন (মরণোত্তর) এবং মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল (মরণোত্তর) পুরস্কার পেয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিভাগে মনোনীত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান, রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (মরণোত্তর), কিউএবিএম রহমান ও আমজাদ আলী খন্দকার।
নৃত্যে মনোনীত হয়েছেন জিনাত বরকতুল্লাহ, সঙ্গীতে নজরুল ইসলাম বাবু (মরণোত্তর), ইকবাল আহমেদ ও মাহমুদুর রহমান বেনু, অভিনয়ে খালেদ মাহমুদ খান (মরণোত্তর), আফজাল হোসেন ও মাসুম আজিজ।
সাংবাদিকতায় এম এ মালেক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মো. আনোয়ার হোসেন এবং শিক্ষায় অধ্যাপক ডা. গৌতম বুদ্ধ দাস মনোনীত হয়েছেন।
সমাজসেবা বিভাগে মনোনীত হয়েছেন এস এম আব্রাহাম লিংকন ও সংঘরাজ ডা. জ্ঞানশ্রী মহাথেরো। ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন কবি কামাল চৌধুরী ও ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ।
কবি কামাল চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এবং বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উদযাপনের জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কের পদে অধিষ্ঠিত।
গবেষণা বিভাগে মনোনীত হয়েছেন এমিরেটাস অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার মন্ডল, ডা. মো. এনামুল হক (টিম লিডার), ডা. শাহানাজ সুলতানা (টিম) এবং ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস (টিম)।
প্রসঙ্গত, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এবং একুশের চেতনাকে ধারণ করে দেশের শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত অবদান রাখছেন, তাদের সকলের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার প্রতি বছর গৌরবময় একুশে পদক প্রদান করে থাকে। জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক দেয়া হচ্ছে।


