সু.খবর ডেস্ক
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এক দিন হয়তো শনাক্তে রেকর্ড হচ্ছে, আবার পরদিনই মৃত্যুর রেকর্ড গড়ছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এক সপ্তাহ ধরে চলছে এ অবস্থা।
শনাক্তে রেকর্ড গড়ার পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার মৃত্যুতেও আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আরও ১৪৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আগের দিনের তুলনায় এক লাফে মৃত্যু বেড়েছে ২৮ জনের। এর আগে গত ২৭ জুন সর্বোচ্চ ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এ নিয়ে করোনায় মোট ১৪ হাজার ৬৪৬ জন প্রাণ হারালেন। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ হাজার ৩০১ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা ৯ লাখ ২১ হাজার ৫৫৯ জনে পৌঁছাল। এর বিপরীতে গতকাল করোনা সংক্রমিত আরও ৪ হাজার ৬৬৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত ৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ১০ দিনের মাথায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। এরপর শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু প্রথমে একশর ওপরে মৃত্যুবরণ করে চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল। ওই দিন ১০১ জনের মৃত্যু হয় এবং শনাক্ত হন ৫ হাজার ৬৯৪ জন। এরপর এপ্রিলেই আরও পাঁচ দিন শতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে ১৬ এপ্রিল থেকে পরপর চার দিন মৃত্যুর সংখ্যা একশজনের ওপরে ছিল। ১৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন ১০১ জন এবং শনাক্ত হন ৩ হাজার ৪৭৩ জন। ১৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন ১০২ জন এবং শনাক্ত হন ৩ হাজার ৬৯৮ জন। ১৯ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন ১১২ জন এবং শনাক্ত ৪ হাজার ২৭১ জন। এর ছয় দিনের মাথায় ২৫ এপ্রিল আবারও ১০১ জন মৃত্যুবরণ করেন। শনাক্ত হন ২ হাজার ৯২২ জন।
তবে মাঝখানের ওই পাঁচ দিন মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ জনের ওপরে ছিল। এরপর এক মাসের মাথায় গত ২৫ জুন মৃত্যুর সংখ্যা আবারও একশ অতিক্রম করে। ওই দিন করোনা সংক্রমিত ১০৮ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২৬ জুন মৃত্যু একশর নিচে নামলেও ২৭ জুন থেকে প্রতিদিন একশর ওপরেই থাকছে। ২৭ জুন ১১৯, ২৮ জুন ১০৪, ২৯ জুন ১১২, ৩০ জুন ১১৫ জনের মৃত্যু হয়।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, একদিনে রোগী শনাক্তের সংখ্যা প্রথমে সাত হাজার অতিক্রম করে গত ৪ এপ্রিল। ওইদিন সাত হাজার ৮৭ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরদিন ৫ এপ্রিলও সাত হাজার ৭৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। মাঝখানে একদিন বাদ রেখে ৬ এপ্রিল সাত হাজার ২১৩ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরদিন ৭ এপ্রিল রেকর্ড গড়ে সাত হাজার ৬২৬ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ১২ এপ্রিল সাত হাজার ২০১ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর রোগী শনাক্ত কিছুটা কমে আসে।
গত কয়েক দিন ধরে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছিল। এর মধ্যেই গত ২৮ জুন আট হাজার ৩৬৩ জন রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২৯ জুন সাত হাজার ৬৬৬ জন ও ৩০ জুন আট হাজার ৮২২ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। গত এক সপ্তাহের মধ্যে তিন দিনই আট হাজারের ওপরে রোগী শনাক্ত হয়েছে।
মৃত্যুতে শীর্ষে খুলনা, সংক্রমণে ঢাকা :গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে খুলনা বিভাগ। এ বিভাগে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকায় ৩৫ জন, রাজশাহীতে ১৯, চট্টগ্রামে ১৫, রংপুরে ১০, বরিশালে সাত, সিলেটে সাত এবং ময়মনসিংহে তিনজন মৃত্যুবরণ করেছেন।
শনাক্তে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গতকাল এ বিভাগে তিন হাজার ৩৭৬ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাজশাহীতে এক হাজার ২৭৯ জন এবং তৃতীয় স্থানে থাকা খুলনায় এক হাজার ২৪৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ১৭১ জন, রংপুরে ৪৬৫ জন, বরিশালে ২৮৬ জন, ময়মনসিংহে ২৮০ জন এবং সিলেটে ১৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সারাদেশে ৫৬৬টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৯২৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৩২ হাজার ৫৫টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৮২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
সূত্র : সমকাল


