এক কিলোমিটার সড়ক না হওয়ায় দুর্ভোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
দক্ষিণ ছাতকের মানুষ কম সময়ে জগন্নাথপুর ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নবাসীর ছাতক ও সিলেটের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে কলকলিয়া, যুগলনগর, হায়দারপুর- কৈতক সড়কটি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ কারণে দক্ষিণ ছাতক, কলকলিয়া এবং পূর্ব দিরাইয়ের প্রায় ২ লাখ মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এই নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করে কোন সদুত্তর পাচ্ছেন না। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দ্রুত এই সড়কের কাজ শুরু না হলে তারা সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন।
ছাতকের বৃহৎ ইউনিয়ন ভাতগাঁও ও জগন্নাথপুর উপজেলার আরেকটি বৃহৎ ইউনিয়ন কলকলিয়ার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে দক্ষিণ ছাতকের কৈতকের সঙ্গে পাগলা-জগন্নাথপুর সড়কের সংযোগ স্থাপনের জন্য ২০১৬ সালে দুটি সেতু এবং এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রায় ৬ কোটি টাকার এই কাজ পান সুনামগঞ্জ শহরের ঠিকাদার নুরুল ইসলাম। সড়কের ৬৩ মিটার এবং ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি সেতুর কাজ করার পর এই সেতু দুটির অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ করা হয়নি। গত প্রায় দুই বছর ধরেই এলাকাবাসী জগন্নাথপুর, ছাতক ও সুনামগঞ্জ এলজিইডি অফিসে যোগাযোগ করেও কোন ফল পাননি।
কলকলিয়া ও ভাতগাঁও ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষসহ দক্ষিণ ছাতকের লক্ষাধিক মানুষ সড়কটির কাজ শেষ না হওয়ায় যোগাযোগ দুর্ভোগে আছেন।
কলকলিয়া শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন দক্ষিণ ছাতকের শ্রীমতিপুর, হায়দরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী। এরা বর্ষায় কলেজে আসতে পারে না। হেমন্তে পায়ে হেঁটে কলেজে আসে।
কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, কলকলিয়া, পূর্ব দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ ছাতকবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী পাগলা-জগন্নাথপুর আউশকান্দি সড়কের সঙ্গে যুগলনগর- হায়দরপুর- কৈতক সড়ক সংযুক্ত হবে। এই সড়ক হলে এই অঞ্চলবাসীর সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগ দূরত্ব কমে। কুশিয়ারা সেতু’র কাজ শেষ হলে এই এলাকার মানুষ রানীগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকায় সহজেই যেতে পারবেন। জগন্নাথপুর-ছাতকের মধ্যে আন্ত:যোগাযোগও সহজ হয়।
কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বার বার তাগিদ দেবার পরও ঠিকাদার এবং এলজিইডি’র দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমরা শুনেছি ঠিকাদার ৬ কোটি টাকার কাজের সিংহভাগ বিলই উত্তোলন করে নিয়েছেন। এজন্য তারা মানুষের দাবীকে আমলে নিচ্ছে না।
কলকলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানালেন, ভাতগাঁও এবং কলকলিয়া ইউনিয়নের বিশিষ্টজনেরা একাধিকবার এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুনয়-বিনয় করেছেন, কিন্তু তারা কাজটি করছে না। মানুষের ভদ্রতাকে তাচ্ছিল্য করছে তারা। আমরা দুই এলাকার বাসিন্দারা সম্প্রতি কয়েকদফা বৈঠক করেছি। দ্রুত এই সড়কের কাজ শেষ না হলে আমরা আন্দোলনেই নামবো।
ঠিকাদার নুরুল ইসলামের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
ছাতক উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী আবুল মুনসুর বলেন, কাজের মেয়াদ শেষ হবার পর কাজ শেষ না করায় কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার বার বারই কাজ শেষ করার আশ^াস দিচ্ছেন কিন্তু কাজ শেষ করছেন না। সর্বশেষ ঠিকাদার কথা দিয়েছেন আগামী ২ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে দেবেন।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, আমি সুনামগঞ্জে নতুন এসেছি। মঙ্গলবার কলকলিয়ার পাশের যুগলনগর সড়কের অংশটি দেখে এসেছি। আমি চেষ্টা করবো দ্রুত এই কাজটি করিয়ে মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।