এক ফরমেই লটারি/ প্রধান শিক্ষক এখন কী বলবেন?

গ্রামীণ বাজারে সস্তা জিনিস বিক্রি করতে ক্যানভাসাররা যেভাবে চতুর কথা বলেন সেভাবে সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেছিলেন, একাধিক ভর্তি ফরম কিনলে লটারিতে সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ যে যত বেশি ফরম কিনবে লটারিতে তার নাম উঠার সম্ভাবনা তত বেশি। এভাবে তিনি অভিভাবকদের একজন শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক ভর্তি ফরম কিনতে প্ররোচিত ও বাধ্য করেছিলেন। কার্যত দেখা গেল, লটারির সময় একটি ফরমই গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ লটারিতে একাধিক ফরম ব্যবহার করা হয়নি। এখন প্রশ্ন উঠা খুবই স্বাভাবিক, প্রধান শিক্ষক কোন্ আদেশ বা ক্ষমতাবলে অভিভাবকদের একাধিক ভর্তি ফরম কিনতে বাধ্য করে বিপুল পরিমাণ টাকা উঠিয়েছিলেন? ভর্তি ফরম বিক্রির টাকা কোথায় গেল? তিনি কেন চতুরতার আশ্রয় নিয়ে অধিক ভর্তি ফরম কিনতে বাধ্য করেছিলেন? বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এসব বিষয় পরিস্কার করা হয়নি। একটি বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে সংঘটিত এই অনিয়ম ও দুর্নীতিকা- কি এমনিতেই মিলিয়ে যাবে? প্রশ্নটি তুলেছিলেন কিছু গণমাধ্যমকর্মী মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায়। সভা থেকে এর কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে একটি তথ্য পাওয়া গেছে, তা হলো লটারিতে একাধিক ফরম ব্যবহার করা হয়নি। একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি ফরমই লটারিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ওই বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি। তিনি যেহেতু একাধিক ফরম বিক্রির বিষয়টি জেনেছেন তখন এর একটি বিধিসম্মত সমাধান এখন আশা করা যায়। আমরা অপেক্ষায় আছি এর সমাধান দেখতে। যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের লেনদেন সরকারি আদেশ-নির্দেশ বা বিধির বাইরে হওয়ার কথা নয়। ভর্তি ফরম বিক্রির যাবতীয় টাকার হিসাব যথাযথ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ইচ্ছামতো টাকা আদায় কিংবা খরচ করার কোনো অবকাশ নেই। ভর্তির ক্ষেত্রে মাউশি শিক্ষার্থীপ্রতি ফরমের দাম ১১০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিলো। ওই নির্দেশ অমান্য করে প্রধান শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর নিকট ২ থেকে ৮টি পর্যন্ত ফরম বিক্রি করেছেন। এতে নির্ধারিত পরিমাণের বহু গুণ টাকা তিনি আদায় করেছেন। স্বচ্ছতার স্বার্থে এর সঠিক হিসাব বের করা সংশ্লিষ্টদের অন্যতম দায়িত্ব বটে। এছাড়া অনলাইনে ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু করতে তিনি আগে থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করেননি যে কারণে অফলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। এই অকর্মন্যতার দায়ও একান্তই প্রধান শিক্ষকের। যে অভিভাবকরা একাধিক ফরম ক্রয় করেছেন এখন উচিৎ হলো তাদের টাকা ফেরৎ দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষ কেন এমন আর্থিক দুর্নীতির শিকার হবেন?
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো উচ্চ নৈতিকতা শিক্ষার জায়গা। শিক্ষার্থীরা জীবনের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শ এই জায়গা থেকে গ্রহণ করেন। এরকম পবিত্র জায়গায় প্রবেশ করার সময়ই যখন কোনো শিক্ষার্থী এমন অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় তখন তাদের কঁচি মনে কেমন প্রভাব পড়তে পারে, সকলের তা ভেবে দেখা উচিৎ। বর্তমান প্রধান শিক্ষকের সময়ে আলোচ্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন জায়গায় অবনমনের কথা এখন মুখে মুখে আলোচিত বিষয়। মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এ বিষয়ে মনোযোগী হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আমরা আশা করব গণমাধ্যমে গত পক্ষকালব্যাপী বা এর আগে যত খবর প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোর একটি সঠিক তদন্ত পরিচালনা করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শহরের প্রায় আশি বছরের পুরনো এই প্রাচীন ও স্বনামধন্য নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিবিশেষের স্বেচ্ছাচারিতার অভয়ারণ্যে পরিণত করা কখনও কাম্য নয়।